বুধবার ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই, ৪৮০ কোটি টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে

আকাশবার্তা ডেস্ক :

বিভিন্ন অজুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে প্রায় চারশ আশি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। গত এক মাসে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে সময় ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিন্ডিকেট করে এ অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া হয়েছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।

এভাবে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকশ কোটি টাকা যাবে কতিপয় অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের পকেটে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশে গড়ে প্রতিমাসে পেঁয়াজের চাহিদা এক লাখ ৬০ হাজার টন। এখন প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। প্রতিকেজিতে ৩০ টাকা অতিরিক্ত দাম ধরলে একমাসে ৪৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটটি। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করছেন আড়তদাররা।

রহমতগঞ্জ পাইকারি বাজারের আল-আমিন ট্রেডার্সের ম্যানেজার আমার সংবাদকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়নি। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে বাংলাদেশের বাজারেও দাম বেড়েছে। ভারতের পেঁয়াজের বাজারের উপর বাংলাদেশের বাজার অনেকটা নির্ভরশীল। তিনি বলেন, পেঁয়াজ তো অনেক দিন মজুদ করে রাখা যায় না। সিন্ডিকেট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে কথাটি মিথ্যা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়নি বলে তিনি মনে করেন। বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও মেসার্স জননী ভাণ্ডারের মালিক হাজী মো. মহসিন উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার জন্য পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারত থেকে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজ সময় মতো আসতে পারছে না। বৃষ্টি কমে গেলে দাম কমবে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রধান পরিচালক মাহমুদুল হাসান আমার সংবাদকে বলেন, ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে আমাদের এখানেও দাম বেড়েছে। মূল্য সহনীয় পর্যায় রাখতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তাই বলতে পারছি না। তবে পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট আছে বলে আমার মনে হয় না। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদ এলেই প্রতিবছর অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের দাম। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি বছরও। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দাম। দুসপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, ঈদুল আজহা এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপণ্যটির দাম আরও বাড়বে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, আড়তদাররা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। যে কারণে তাদেরও বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। আর বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই শেষপর্যন্ত এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর। দেখা গেছে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া রমজান মাস ও কোরবানির সময় দেড় থেকে দুই লাখ টন বাড়তি পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয়। এ চাহিদাকে পুঁজি করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিন্ডিকেট। কোরবানির ঈদকে টার্গেট করেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। দেশে উৎপাদন, আমদানি ও চাহিদা হিসাব করলে এখনও দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ঢাকায় পেঁয়াজের প্রধান পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে মঙ্গলবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় এবং ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৩৯ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাস ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্ষা মৌসুম ও আমদানি কম হওয়ায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীদের মজুদকেও একটি কারণ বলেছেন তারা।

জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। রমজান মাস ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে এ চাহিদা বেড়ে যায়। এ চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন। চাহিদা পূরণে আমদানি করা বাকি পেঁয়াজের বেশিরভাগই আসে পাশের দেশ ভারত থেকে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশি পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়।

অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় পেঁয়াজের দ্বিগুণ দর বৃদ্ধির মধ্যে সংকট মোকাবিলায় মিসর ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারকরা মিসর ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আনছে। যাতে করে পেঁয়াজের দাম কমবে।

সূত্র : আমার সংবাদ/আকাশবার্তা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১