নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জে একটি চুরির ঘটনায় থানায় বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে মো. শওকত ইসলাম (৪০) নামে এক কাঠমিস্ত্রীর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠায়।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের চকিদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও আহত শওকতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত রমজান ঈদের পরে একই গ্রামের কাতার প্রবাসী বেলাল হোসেনের পাকের ঘর মেরামতের জন্য শওকত ও তার বড় ভাই আব্দুল জব্বার কাজ করতে যান। তারা দুইজনই পেশায় কাঠমিস্ত্রী। গত ৫-৬ দিন আগে বেলালের স্ত্রী প্রীতির কয়েকটি স্বর্ণালংকার পাওয়া যাচ্ছিলো না৷ এতে তিনি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় পুলিশ উভয়পক্ষকে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় ডাকেন৷ উভয়পক্ষকে নিয়ে থানার ওসি নিজেও ঘটনাটি নিয়ে বৈঠক করেন। এতে কাঠমিস্ত্রী দুই সহোদরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। বৈঠক শেষে রাত ৮টার পরে দেওপাড়া গ্রামে শওকত শশুর বাড়িতে যান। শশুর বাড়ি ও তার নিজ বাড়ি একই গ্রামে কাছাকাছি এলাকায়৷ শশুরের সঙ্গে দেখা করেই তিনি বাড়ি ফিরছিলেন৷ পথে চকিদার বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে দুর্বৃত্তরা শওকতের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
শওকতের বড় ভাই আব্দুল জব্বার বলেন, শওকত আমার সঙ্গে ওই বাড়িতে কাঠমেস্ত্রীর কাজ করতে যায়। এরমধ্যে বেলালের স্ত্রীর স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ করা হয় আমাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা নিরাপরাধ। থানার বৈঠকেও আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। বেলালের স্ত্রী নিজেই স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রেখে আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঘটনা প্রমাণ করতে না পেরে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে আমার ভাইকে হত্যার চেষ্টা করে।

সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিব চন্দ্র পাল বলেন, রোগীর গলার ওপরের চামড়া কেটে জখম হয়েছে। ঘটনাটি আরো মারাত্মক হতো পারতো। তবুও আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। শওকতকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলে কে বা কারা কি কারণে তাকে আঘাত করেছে তদন্তের পর তা জানা যাবে।