আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের নাগেরহাটে যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যার দায় স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে আলমগীর হোসেন (৩৮) ওরফে কদু আলমগীর ওরফে টাকলু আলমগীর। সে সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামের আবু কালামের ছেলে। চন্দ্রগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ১৮ নম্বর আসামি আলমগীর।
পুলিশ জানায়, আলমগীর ২০১৩ সালের দিকে সন্ত্রাসী মাছুম বিল্লাহ ওরফে লাদেন মাছুম বাহিনীর সদস্য ছিল। তার মৃত্যুর পর সে ২০১৫ সালের দিকে আবুল কাশেম জেহাদীর বাহিনীতে যোগ দেয়। নোমান-রাকিব হত্যার ঘটনার সাথে সে সরাসরি জড়িত। গত মঙ্গলবার (০২ মে) তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বুধবার (০৩ মে) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করলে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এসময় কদু আলমগীর হত্যার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ (অঞ্চল) আমলি আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবীর তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (০২ মে) সন্ধ্যায় দেওয়ান ফয়সাল নামে আরো এক আসামি একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তিনি রামগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বুধবার (০৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
কদু আলমগীর পুলিশকে জানায়, যুবলীগ নেতা নোমানের বিষয়ে দুইজন লোক ঘটনার দিন দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে তার বাড়িতে যায়। তারা তাকে বলে একটা টার্গেট আছে, তাকে সাইজ করতে হবে। তাকে সন্ধ্যায় বশিকপুরে যেতে বলে। সন্ধ্যায় আলমগীর ওই দুইজনের সাথে মোটরসাইকেলযোগে নাগেরহাট বাজারে যায়। এরপর তারা হেঁটে হেঁটে একটি একটি ফাঁকা মাঠে যান। সেখানে আরো ৩৫ থেকে ৪০ জন ছিল। তারা ৭ থেকে ৮ জন করে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যায়।
একজন ব্যক্তি ছিলেন- যিনি অস্ত্র নিয়ে আসেন। সে সবার হাতে অস্ত্র তুলে দেন এবং কার্যক্রম ঠিক করে দেন। অস্ত্রের মধ্যে বন্দুক এবং পিস্তল ছিল।
কদু আলমগীরের বক্তব্য অনুযায়ী- তারা ৫ ভাগে ভাগ হয়ে যান। তাদের দলে ৮ জন ছিল। ব্যাকআপ পার্টি হিসেবে কাজ করে তারা। এ গ্রুপটি ঘটনাস্থলের অদূরে করাত কলের পাশে প্রায় ৪৫ মিনিট ওঁৎপেতে থাকে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে গুলি শব্দ শুনে। এ গ্রুপটি দৌঁড়ে এসে দেখে রাকিব ইমাম পড়ে আছে। নোমান ৭-৮ লাফ দিয়ে পালাতে থাকে। তিনজন মিলে তাকে ধরে গুলি করে হত্যা করে।
নোমান মারা গেলে তাদের গ্রুপটি নাগেরহাট মাদরাসার সামনে যায়। সেখানে সিএনজি অটোরিকশা ছিল। ৫ জন সিএনজিতে করে চলে যায়। বাকী তিনজন মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হত্যাকাণ্ডে সে নিজেও পিস্তল ব্যবহার করেছে। ঘটনা শেষে অস্ত্রগুলো ওই ব্যক্তির কাছে জমা দিয়ে দেয়।
পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, কদু আলমগীরের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র, মাদক, দস্যুতা, অপহরণ এবং বিস্ফোরক আইনে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা, নোয়াখালীর চাটখিল থানা এবং চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজে কদু আলমগীরসহ যে ৮ জনকে দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় সে পুলিশকে জানিয়েছে। ৩৫-৪০ জনের নামও বলেছে। বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হত্যা মামলাটি তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তার মধ্যে ডিবি, র্যাব ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) রয়েছে। সিটিটিসির সাহায্যে সিসি টিভি ফুটেছে শনাক্তকৃত আলমগীরকে ধরতে সক্ষম হই। ঘটনার পরদিন সে ঢাকায় পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের বশিকপুরের নাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমাম। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা নোমানের বড়ভাই বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বশিকপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জেহাদীকে আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী আবুল কাশেম জেহাদীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।