শুক্রবার ২৯শে মে, ২০২৬ ইং ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

সহিংসতা দমনে কঠোর সরকার

আকাশবার্তা ডেস্ক :

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে বিএনপির দুই দিনব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি শেষ হয়েছে। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও পদযাত্রা পালনে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি দলটির নেতারা। মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত-সংঘর্ষে প্রাণ ঝরার পর পদযাত্রার দ্বিতীয় দিন বুধবার লাঠিসোঁটা হাতে রাজপথে নামেন তারা। শুধু কর্মীরা যে মারমুখী অবস্থানে ছিলেন- বিষয়টি এমন নয়। নেতারাও তাদের বক্তব্যে কাউকে ছাড় না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পদযাত্রা শুরুর আগে আব্দুল্লাহপুরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা হুমকি দিয়ে বলেন- ছেড়ে দেয়ার দিন শেষ, এখন খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ। আর কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। জীবন দিয়ে হলেও দাবি আদায় করে নেয়া হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোক র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ে সরকারকে হুঁশিয়ারি করেন তারা। তাদের এসব বক্তব্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে, মুখে শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও পদযাত্রার কথা বললেও তাদের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা মারমুখী। সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই দাবি আদায় করতে চায় দলটি।

তবে রাজপথের এই বিরোধী দলের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। শান্তি সমাবেশ নিয়ে রাজপথে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। নির্বাচনের আগে সব ধরনের সংঘাত ঠেকাতে বদ্ধপরিকর ক্ষমতাসীনরা।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সংঘাতে সরকারের কেউ জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করা হবে।

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির পদযাত্রায় মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষে কৃষক দল নেতা সজীব নিহতের ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। এদিকে দুই দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলা ও গুলিতে একজনকে হত্যা এবং অন্তত তিন হাজার নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসব ঘটনার জন্য সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেছেন তিনি।

তবে সরকারপক্ষ বলছে, নির্বাচন বানচালের জন্য অন্যান্যবারের মতো ষড়যন্ত্র এবং হত্যার রাজনীতিই বেছে নিয়েছে জিয়ার দলটি। বিএনপির পদযাত্রায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে নিহত হয়েছেন কৃষক দলের এক কর্মী। আরো ছয়টি জেলায় বিএনপির পদযাত্রায় বাধা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের সদস্য, সাংবাদিকসহ চার শতাধিক ব্যক্তি।

রাজধানীতেও দলটির পদযাত্রায় ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। পদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয় ভাঙচুর ও আশপাশের ভবনের গ্লাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। পরে তারা ওই সড়কে চলাচলরত যানবাহনের ওপরও চড়াও হয়। বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

এ হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সন্ধ্যার পর নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের বাইরে ভাঙচুর এবং ব্যানার ফেস্টুনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগামী নির্বাচন ঘিরে দুই দলের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মনে শঙ্কা-উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই পরিস্থিতির লাগাম টানতে না পারলে সামনে দেশ এক ভয়ানক বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াতের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। তবে কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি অশান্তির পথে হাঁটছে। সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তারা সন্ত্রাস করবে, সন্ত্রাস করে নির্বাচন পণ্ড করবে, নির্বাচন ভন্ডুল করবে- এ লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট- তারা সহিংসতা করতে চায়, সহিংসতা শুরু করেছে। সহিংসতা শুরু করলে সরকার বসে থাকবে না। যারা সহিংসতা করবে, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে- তাদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। সেইসঙ্গে যারা সহিংসতার সৃষ্টি করবে আমাদের দলও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা শান্তি শোভাযাত্রা করছি। আমরা সবসময়ই সহিংসতার বিপক্ষে। বিএনপি সহিংসতা করতে পারে এই আশঙ্কায় জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খল বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে বিগত ছয় মাসে বিএনপি জোটের যুগপৎ আন্দোলনে বড় কোনো হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ১২ জুলাই বিএনপি ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশ করে এক দফার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে, সেদিন একই সময় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। সেদিনও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় দুটি সমাবেশ।

হঠাৎ করে শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষের পেছনে পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, গত দুদিনে যা ঘটেছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। পরিমিতি এবং সংযমের অভাব। দীর্ঘদিন পর রাজনীতিতে সহিংসতা কোন উদ্দেশ্যে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ পর্দার আড়ালে কী চলছে, তা স্পষ্ট নয়। রাজনীতির যে কোনো পক্ষেরই ঔদ্ধত্য, সংযমহীনতা ক্ষতির কারণ। কেউ যদি মনে করে, অন্য দলকে বাগে পেলাম, দেখিয়ে দেব, দাবিয়ে রাখব- এসব এখন আর কার্যকর হবে না। রাজনীতিবিদদের প্রতি আমার আস্থা আছে। দুই দলের মধ্যেই সংঘাতের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা এখনই প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা নেই। নতুবা সহিংসতা হবে।

সূত্র : ঝর্ণা মনি : ভোরের কাগজ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১