রবিবার ১লা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিৎ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি যেভাবে বর্বর নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগ চলছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এ জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিৎ। চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতনকে গণহত্যার শামিল বলে মনে করেন তিনি। সোমবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কাজী রিয়াজুল হক এ কথা বলেন। এ সময় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নুরুন নাহার ওসমানী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আনোয়ারুল নাসের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমারের বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ঘুমন্ত মানুষের প্রতি বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে, মেয়েদের তুলে নেওয়া হয়েছে—তা সভ্য সমাজে হয় না। একটা ক্ষুদ্র জাতির ওপর এ রকম নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণ ও ঘরে ঘরে আগুন গণহত্যার শামিল। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিতে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলকে জানানো হয়েছিল। এখন আন্তর্জাতিক মহল রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ দিচ্ছে। তবুও মিয়ানমার দমন-পীড়ন বন্ধ করছে না।

তিনি বলেন, এর ফলে ইতিমধ্যে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। আরও অনেক রোহিঙ্গা সীমান্তে অনুপ্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে। আগে থেকে কক্সবাজারে বসতি করেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। মোট সাত-আট লাখ রোহিঙ্গার ভারে স্থানীয় বাসিন্দারা হিমশিম খাচ্ছে। তাদেরও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, বিপুল রোহিঙ্গার এত বড় বোঝা বহন করার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তবুও মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার আট লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। এখন মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করে রোহিঙ্গাদের সে দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে। জাতিসংঘ, ওআইসি, আশিয়ানসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে তৎপর করতে হবে।

তার ভাষায়, আশিয়ানের দুই প্রভাবশালী সদস্য দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সক্রিয় হয়েছে। ভারত ও চীনকে কাজে লাগাতে হবে। তারা মিয়ানমারকে গণহত্যা বন্ধের ব্যাপারে বোঝাতে পারে। এত কিছুর পরও যদি কোনো কাজ না হয়, তাহলে গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা যেতে পারে।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ২৪ আগস্ট দুপুরে ইয়াঙ্গুনে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ হলো। তার কয়েক ঘণ্টা পর রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমাংশে একসঙ্গে ৩০টির বেশি সীমান্ত চৌকিতে হামলা পরিকল্পিত কিনা, তা নিয়ে ভাবতে হবে। কারা এই হামলা করল?

তিনি বলেন, মিয়ানমারে বিপুল সম্পদ পড়ে আছে। সেই সম্পদের দিকে অনেকের নজর পড়েছে। এ জন্য রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা রাখাইন রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে রোহিঙ্গারা উগ্রপন্থী ভূমিকা নিচ্ছে। রোহিঙ্গারা নিজ রাজ্যে চলাফেরা করতে পারে না। বিয়েশাদি, চাকরি, লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই করতে পারে না। স্বাস্থ্যসেবাও নাই। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কফি আনার কমিশনের প্রতিবেদনে জোর দেয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এগুলো হলো—কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ প্রয়োগ, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা যারা করেছে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা এবং ঢুকে পড়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন। নইলে রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়বে। তখন জননিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।

সূত্র : আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১