কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মো. মহসিনের ছেলে মাহমুদুল হাছান হিরুকে একটি হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যমূলক অভিযুক্ত করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করেছেন পরিবারটি। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কমলনগর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের এ দাবি জানান প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রেবেকা মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেবেকা মহসিন জানান, উপজেলার চরজাঙ্গালীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা স্বামী মো. মহসিন ২০১২ সালে মারা যান। তিনি হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমীর শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সৎ ভাই (দেবর) মো. ছানা উল্যাহ তহশিলদারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি দখল করার জন্য ছানা উল্যা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় নানা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেন। ২০১৬ সালের ২৯ মে চরলরেন্স এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের পিয়ন মো. মাকসুদ (২৬) নিখোঁজ হয়। ঘটনার ৮দিন পর ছানা উল্যার বাড়ির সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে পুলিশ তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বেলাল হোসেন ওইদিন রাতে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত শিক্ষকের ছেলের নাম ছিলনা। রেবেকা মহসিন অভিযোগ করে বলেন, পরবর্তীতে ছানা উল্যাসহ একটি কুচক্রি মহল পুলিশকে ম্যানেজ করে তার ছেলে মাহমুদুল হাসান হিরুকে মামলার ৩নং আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশীট দাখিল করায়।
তিনি আরও বলেন, হত্যার ঘটনার সাথে আমার ছেলে সম্পৃক্ত নয়। আমিও এই হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচার চাই। হত্যার রহস্য উদঘাটনে জব্দ করা আলামতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জুুডিসিয়াল তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনার উম্মোচন হবে বলে দাবি করেন তিনি। এজন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।