পাঠকপ্রিয়তা একটি পত্রিকার প্রাণ। সেটা অনলাইন হোক আর প্রিন্ট পত্রিকাই হোক। পাঠকপ্রিয়তা না পেলে যেকোনো সংবাদ মাধ্যম তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা। তবে পৃথিবীর উন্নত দেশের পথ ধরে আমাদের দেশেও ক্রমান্বয়ে প্রিন্ট পত্রিকার পাঠক দিন দিন কমে যাচ্ছে। হয়তো আগামী একদশক পরে প্রিন্ট পত্রিকা আর নাও থাকতে পারে।
আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে ইন্টারনেটের প্রভাবে সবাই এখন অনলাইন পাঠকদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই অনলাইনে পাঠক সংখ্যা গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে দেখা যেত সকালে পত্রিকার এজেন্টে এসে পাঠক সমাজ ভিড় করত। যে যার পছন্দ মত পত্রিকা কিনে নিত। আর সুযোগ পেলেই পত্রিকার এপিঠ ওপিঠ উল্টে উল্টে দেখতো। সময় বদলে গেছে, এখন হাতে থাকা মোবাইল বা ল্যাপটপ খুলে ইন্টারনেটের সাহায্যে যে কোনো সংবাদ মাধ্যমে ঢুকে নিজের কাঙ্খিত সংবাদ খুঁজে নিতে পাঠকদের বেগ পেতে হয়না। বরং প্রিন্ট পত্রিকায় যে খবর পড়তে কালকে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, অনলাইনে সেটা ১০ বা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রকাশিত হচ্ছে। অবাধ তথ্য প্রবাহের এ যুগে এখন কেউ পিছিয়ে থাকতে চায়না। সংবাদ মাধ্যমগুলো কে কার আগে সংবাদ পরিবেশন করবে এনিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। সবার আগে সব সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
আমাদের দেশে টেলিভিশন চ্যানেল, প্রিন্ট পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকা প্রকাশের প্রতিযোগিতা চলছে হরদম। প্রতিবছরই জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে নতুন নতুন পত্রিকা যুক্ত হচ্ছে। অনেকে এখন তাদের বৈধ অবৈধ সম্পদের পাহারাদার হিসেবে মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
কে কীভাবে কোন উদ্দেশ্যে মিডিয়াকে ব্যবহার করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। বিষয়টি সরকার থেকে শুরু করে আম জনতা প্রায় সবারই কম বেশি জানা আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা ব্যবসায়ীদের হাতের নাগালে চলে গেছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা।
একটি সংবাদ মাধ্যম সমাজের আয়না। তবে সমাজের আয়না হিসেবে যারা তার সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এক্ষেত্রে দেখা যায়, বেশিরভাগ সংবাদ মাধ্যমের মালিক দেশ বা সমাজের নয় নিজের প্রয়োজনেই তার মালিকানাধিন মিডিয়াকে ব্যবহার করেন। তাহলে ওই সংবাদ মাধ্যম থেকে দেশ বা সমাজ কী পেল?
আমি অতি নগণ্য একজন মফস্বল সংবাদ কর্মী। বড় বড় কথা বলা হয়তো আমার সাজে না। তবুও আত্ম উপলব্ধি থেকে কিছু লেখার চেষ্টা মাত্র।
সংবাদ মাধ্যমের সাথে আমার চলার পথ প্রায় একদশক হতে চলল। শুরুতে সখের বশে এ পেশায় আসা। এখন অনেকটা নেশা ও পেশা দুটোয় মানিয়ে নিয়েছি। কাজ করতে ভালো লাগে, তাই দিনের বেশিরভাগ সময় কাজে ডুবে থাকতে মন চায়।
কাজে ডুবে থাকার বাসনা থেকেই আকাশবার্তাবিডি.কম এর সৃষ্টি। তবে মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সমাজের অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের না বলা ব্যথার কথাগুলো তুলে ধরা। একটি কথা হয়তো সবার জানা আছে। আমাদের দেশে অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলোর জন্য যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখন ওইসব মানুষ এসে সংবাদ মাধ্যমের দরজায় এসে দাঁড়ায়। সংবাদ কর্মীদের ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত ওই মানুষগুলো তাদের হারানো অধিকার ফিরে পায়। একজন সাংবাদিকের এটাই স্বার্থকতা।
আকাশবার্তাবিডি.কম এর লক্ষ্য সেসব অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপ্রকাশিত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলা। অপ্রকাশিত ওইসব প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সর্বোপরি আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।