
ধর্ষণের ঘটনার পর মাসুদ মাষ্টারের বাড়ির সামনে সালিশ বৈঠক।
আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের কুশাখালীতে ১৪ বছরের শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ঘটনার ৩দিন পর রোববার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এরআগে বিকেলে ধর্ষক খোকনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরমটুয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবা ও বাকপ্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে ভিক্ষায় সহযোগিতা করে আসছে ১৪ বছর বয়সী ধর্ষিত ওই শিশু। একই এলাকার মৃত আক্তারুজ্জামানের ৫৫ বছর বয়সী ছেলে খোকনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ওই শিশুর উপর।
গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পূর্ব চরমটুয়া গ্রামের পাকার মাথা নামকস্থানে রফিকের চা দোকান সংলগ্ন ভাড়া বাসায় মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে খোকন। এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় কুশাখালী ইউনিয়নের দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুদের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয় মাসুূদ মাষ্টারের নিজ বাড়ির সামনে। সেখানে ধর্ষকের অপকর্মের বিচার না করে উল্টো মেয়েটিকে ১০১ বেত্রাঘাত এবং তার প্রতিবন্ধী পিতা-মাতাকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষক খোকন থেকে নগদ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে মাসুদ মাষ্টার ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল হিসেবে ধর্ষিতার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অপচেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেয়েটির পরিবারকে আাইনের আশ্রয় নিতে অভয় দিলে ধর্ষিত মেয়েটির পরিবার স্থানীয় দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার এবং ধর্ষক খোকনকে আটকের পর রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষিত মেয়েটির মা কুলসুম বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৭। মামলায় ধর্ষক খোকনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
কুশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ঘটনা শুনেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য জামালকে বলেছি আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে।
দাসেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আসামি খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাসুদ মাষ্টারসহ সমাজপতিদের সালিশ বৈঠকে ভিকটিমকে বেত্রাঘাতের ঘটনা তদন্তেকালে সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।