আকাশবার্তা ডেস্ক :
আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া কথিত ব্লু হোয়েলসহ এ ধরনের সব গেম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। পাশাপাশি এ ধরনের গেম বন্ধে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন।
সোমবার ( ১৬ অক্টোবর) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রুলে স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীগণের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, এটি একটি মরণঘাতী গেম। এই গেম অবশ্যই বন্ধ করা উচিত। এটি করা না হলে কিশোর-কিশোরীরা আসক্ত হবে। ধ্বংস হবে তরুণ সমাজ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. কাউসার, অ্যাডভোকেট নূর আলম সিদ্দিক ও সুব্রত বর্ধন রিট আবেদনটি করেন।
উল্লেখ্য,সম্প্রতি নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলিক্রসের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার বাবা আইনজীবী সুব্রত বর্ধন গতকাল রোববার এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির কল্লোল। ঢাকায় স্বর্ণার ‘আত্মহত্যা’র নেপথ্যে ব্লু হোয়েলকে দায়ী করে খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন হয়।
রাশিয়ার এক সাইকিস্ট সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এই গেমটি উদ্ভাবন ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে নাকি বাংলাদেশে স্বর্ণাসহ অন্তত ৬১ জন ব্লু হোয়েলের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতে এই সংখ্যা ১৩০ বলে জানা গেছে। নিজ দেশ রাশিয়াতে এর শিকার হয়ে ১৮১ জন আত্মঘাতী হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এই গেমে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না।
ব্লু হোয়েল আসলে কী :
এটি আদতে সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন কিংবা নিছক গেম নয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক একটি ডিপওয়ে গেম। যেসব কম বয়সী ছেলে-মেয়ে অবসাদে ভোগে তারাই সাধারণত আসক্ত হয়ে পড়ে এ গেমে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো ক্লান্তি বা বিষণ্নতা দূর করার গেম নয়। আত্মহত্যার প্রবেশ পথ মাত্র। ভারতে ব্লু হোয়েলে আসক্ত হয়ে আত্মঘাতী কয়েক তরুণের সুইসাইডাল নোটে লেখা হয়েছে, ‘ব্লু হোয়েলে ঢোকা যায়, বের হওয়া যায়না’।
জানা যায়, এই গেমে ৫০টি ধাপ রয়েছে। প্রথম দিকে একই গেমের কিছু সহজ কাজ থাকে। এক বা একাধিক কিউরেটর দ্বারা চালিত হয় এই গেম। কিউরেটরদের নির্দেশেই গেমের এক একটি নিয়ম মেনে চলতে থাকে অংশ গ্রহণকারীরা। নিয়ম অনুযায়ী একবার এই গেম খেললে বেরুনো যায় না। কেউ বেরুতে চাইলেও তাদের চাপে রাখতে পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয় বলে আলোচনা আছে। এই গেমের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যেমন ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা, সারা গায়ে আঁচড় কেটে রক্তাক্ত করা, কখনো ভোরে একাকি ছাদের কার্নিশে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনে সময় কাটানো, ভয়ের সিনেমা দেখা ইত্যাদি। চ্যালেঞ্জ নেয়ার পর এসব ছবি কিউরেটরকে পাঠাতে হয়। ২৭তম দিনে হাত কেটে ব্লু হোয়েলের ছবি আঁকতে হয়। একবার এই গেম খেললে কিউরেটরের সব নির্দেশই মানা বাধ্যতামূলক। সব ধাপ পার হওয়ার পর ৫০তম চ্যালেঞ্জ হলো আত্মহত্যা। এই চ্যালেঞ্জ নিলে গেমের সমাপ্তি।
রাশিয়ায় শুরু হলেও এই গেমের শিকার এখন এশিয়ার অনেক দেশ। ভারতে গত দু’মাস ধরে ব্লু হোয়েল নিয়ে চলছে শোরগোল। স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ব্লু হোয়েল লিংক সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের সরকার। পাশাপাশি এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সাধারণভাবে গোপন গ্রুপের মধ্যে অপারেট করা হয় এ গেম। এ ক্ষেত্রে ফেইসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো জনপ্রিয় স্যোশাল ফ্লাট ফরমকে কাজে লাগায় এডমিনরা।
সূত্র : আমার সংবাদ।