
আকাশবার্তা ডেস্ক :
জেএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বড় ভাইকে মারধর ও বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর করেছে বখাটে যুবক ও তার সহযোগিরা। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউপির গৌবিন্দেরখিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে বখাটেদের অব্যাহত হুমকিতে আতংকিত ওই ছাত্রীর পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগি পরিবারটি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার চন্দ্রগঞ্জ (পূর্ববাজার) উচ্চ বিদ্যালয় জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে বের হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মনি (১৪) ও তার অন্যান্য সহপাঠিরা। বাড়ি যেতে তারা সিএনজির জন্য চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজার মাদ্রাসার সামনে অপেক্ষা করছিল। এ সময় বখাটে ফরহাদ, আল আমিনসহ ৪/৫ জন মিলে পরীক্ষার্থী মনিকে উত্ত্যক্ত এবং তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে অন্যান্য সহপাঠিদের শোর-চিৎকারে কেন্দ্রে ডিউটিরত পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে মনি ও তার সহপাঠিরা সিএনজিতে করে বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়। জেএসসি পরীক্ষার্থী মনি একই এলাকার একেজি ছায়েদল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বখাটেরা হলো, একই এলাকার সফি উল্যার ছেলে ফরহাদ ও আবু ছায়েদ মাঝির ছেলে আল আমিনসহ ৪/৫ জন।
জেএসসি পরীক্ষার্থী মনির বড়ভাই সুজন জানান, বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানকে জানিয়েছি। চেয়ারম্যান বখাটে যুবক ফরহাদ ও আল আমিনকে ডেকে নিয়ে উত্তম মধ্যম দেয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করে দেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে আমার বাড়িতে এসে হামলা চালায় এবং বসতঘরে কুপিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে আমার বোনকে আবারো তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমি বাঁধা দিলে বখাটেরা আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দিয়ে আহত করে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ফরহাদ এবং আল আমিনকে ডেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতে তারা যেন এমন অপরাধ না করে তার জন্য সতর্ক করে দিয়েছি। পরে বাড়িতে হামলার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা খানম বলেন, ভিকটিম পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।