আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে অপহরণ করে দুইবন্ধুসহ গণধর্ষণ করার পর তার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে প্রাক্তন স্বামী ও আরো দুই সহযোগী বন্ধুসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে ভিকটিমের মা বাদি হয়ে কমলনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামি তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের সিরাজ মিয়ার ছেলে বাবলুকে রাতেই সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি আবুল কালাম ও অন্য অজ্ঞাত আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ঘটনার শিকার ওই নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষার পর লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিম জানান, কয়েকমাস আগে পারিবারিক কলহের জেরধরে তোরাবগঞ্জ এলাকার আনোয়ার আলীর ছেলে আবুল কালামের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তোরাবগঞ্জ থেকে সিএনজি যোগে লক্ষ্মীপুর আসার পথে আবুল কালামসহ আরো কয়েকজন সিএনজি থেকে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে চোখ বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় কালামের দুইবন্ধু তাকে মারধর করে চুল কেটে দেয়। পরে কালাম ও তার বন্ধু স্থানীয় সিরাজের ছেলে বাবলুসহ ৩ জনে মিলে রাতভর তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে শনিবার সকালে তাকে ছেড়ে দিলে তার মা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিকালে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার কমলাশীষ রায় বলেন, ধর্ষণ ও নির্যাতনে আঘাতপ্রাপ্ত এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই নারীর শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে ভিকটিমের মা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে আবুল কালামসহ ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করলেও প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
তবে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ^াস জানান, প্রাক্তন স্ত্রীকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।