নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলার উপকূলীয় এলাকার মেঘনানদীতে জলদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু সাইফুল বাহিনীর প্রধান সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও কমান্ডার মোঃ সফিক উদ্দিন (২৪) নিহত হয়েছে।
নিহত সাইফুল হাতিয়ার কালিরচর এলাকার আলী আহমদের পুত্র এবং কমান্ডার সফিক উদ্দিন একই এলাকার দুলাল মাঝির পুত্র। মঙ্গলবার রাম সাড়ে ৩টায় এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১১ এর সদস্যরা।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের র্যাব জানায়, মেঘনানদী এলাকায় জেলেদের অপহরণ, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মত জঘন্য অপকর্মের মাধ্যমে এলাকায় অরাজকতা কায়েম করেছে আলোচিত জলদস্যু বাহিনীর প্রধান মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল্লা ডাকাত (৩৫)। তার স্থায়ী ঠিকানা হাতিয়া থানার বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামে। তার বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় হত্যা, অস্ত্র মামলা, ডাকাতির মামলাসহ ৯টি মামলা রয়েছে। তার বাহিনীতে প্রায় ১৫-২০ জন জলদস্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় গত ২১ নভেম্বর অভিযানে জলদস্যু সাইফুল বাহিনীর অবস্থানের কাছাকাছি যাওয়া মাত্রই র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুর বাহিনীর সদস্যরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে একপর্যায়ে দুইজন র্যাব সদস্য (্এএসআই (নিঃ) মোঃ মফিজুল ও কনস্টেবল মোঃ মাহাবুব হোসেন) আহত হয়। এ সময় র্যাব-১১ এর বিশেষ দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। পরে জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে দুই জলদস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় জনগণের সাহায্যে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এদের মধ্যে একজন সাইফুল বাহিনীর প্রধান মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল্লা ডাকাত অপরজন একই বাহিনীর কমান্ডার মোঃ সফিক উদ্দিন।
এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তলসহ মোট ৬টি বিভিন্ন ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন, ১১টি তাজা গুলি, ৬টি গুলির খোসা, ১০টি রকেট ফ্লেয়ার, ৩৭টি মোবাইল এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।