একটি সুন্দর দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকতা পেশার লাখো কলম সৈনিক নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকরা কারো দাস নয়। প্রতিদিন কত খবর টেলিভিশনে, পত্রিকার পাতায়। এসব খবরের সূত্রের খোঁজে ছুটে চলছে সংবাদ কর্মীরা। একটি খবর প্রকাশের পর আবার নতুন কোনো খবরের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ার তাগিদ কাউকে দিতে হয়না। অবহেলিত, অনগ্রসর, হতদরিদ্র, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের খবরের সন্ধানে যারা ছুটে বেড়ায়। তাদের অনেকের পরিবারে উননে আগুন জ্বলেনি হয়তো কতদিন। তবুও একটি সংবাদ প্রকাশ হলে ওই সাংবাদিকের খুশির যেন সীমা থাকেনা। অন্যের মুখে হাসি ফুটিয়ে যারা আনন্দ পায়, তাদের বুকের চাপা কান্নার খবর কয়জনে নেয়।
তবুও কোথাও কোথাও বা কখনও কখনও কোনো সংবাদকর্মী একটু ঊনিশ বিশ করলে তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় এদেশে রাজনীতিবিদদের মুখে। রাজনীতিবিদদের পক্ষে লিখলে সাংবাদিকরা খুব ভালো, বিরুদ্ধে লিখলে খুব খারাপ। এটা আমাদের দেশে চলমান সংস্কৃতি। তবুও কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই সাংবাদিকদের। দেশের বেশির ভাগ সাংবাদিকের স্বপ্ন দু’বেলা খেয়ে পরে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারলেই হলো। তাদের কোটি টাকার স্বপ্ন নেই। কারণ এদেশ ইজারা নিয়েছে রাজনীতিবিদরা। তারা টাকার জন্য কী না পারে, আর কী না করে?
তবে রাজনীতিবিদদের খোশামোদি আর তৈল মর্ধণ না করলে যেসব সাংবাদিকের ঘুম হয়না, তাদের কয়েকজনের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ অবহেলিত। একজন ভালো সংবাদকর্মীর ন্যুনতম বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, আত্ম সন্মানবোধ থাকা প্রয়োজন।
লক্ষ্মীপুরে বিগত প্রায় একদশক ধরে সাংবাদিক সমাজ কয়েকভাগে বিভক্ত। এর কুফল এ পেশায় নিয়োজিত শত সংবাদকর্মীরা অনুভব করলে সুফল পেয়েছে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও অপরাধীরা। এর দোষ আমি সুফল ভোগিদের দিতে চাইনা, এর জন্য আমরাই দায়ী। একটা কথা আছে দেশের সবচেয়ে বিচক্ষণ তারা, যারা সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত। অথচ সেই বিচক্ষণ পেশার মানুষগুলো নিজেরাই তাদের ভালো বুঝেনা।
এর জন্য আসলে দায়ী কারা? আমার দেখায় এবং বুঝায় যা বুঝলাম, এ পেশার সবলোক নিজের পান্ডিত্ব প্রদর্শণে বেশি ব্যস্ত। কেউ একটু কম বুঝে, তা স্বীকার করতে চায়না। তাদের মধ্যে এতটুকু অনুধাবন হয়না আমাদের বিভক্তির জন্য কারা বেনিফিশিয়ারী। নিজের ভালো যেখানে একজন পাগলও ভালো বোঝে, সেখানে আমরা বুঝতে কষ্ট হয়। একজন পাগলেরও এতটুকু খেয়াল আছে রাস্তায় হাঁটতে কিনার চেপে হাঁটতে হয়। না হলে দুর্ঘটনায় সে মারা যাবে। যদি তা না হতো, তাহলে প্রতিদিন যত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তাদের মধ্যে কয়জন পাগল আছে?
অবশেষে লক্ষ্মীপুরে দ্বিধা-বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ভাবনা আমাকে খুব আনন্দিত করেছে। কীসের স্বার্থে আমরা নিজেরা দলাদলি করে বিভক্ত থাকব। নেতৃত্বদান সে তো আল্লাহর দান। মহান আল্লাহ যদি চান আমার নেতৃত্বে চলবে সব সাংবাদিক। তাহলে আমাকে রোধ করার সাধ্য কার?
লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সবাই। যদি না কেউ পিছন থেকে ষড়যন্ত্রের কল-কাঠি না নাড়ে। তাহলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আপনারা যারা নেতৃত্বের জন্য নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ কারো ষড়যন্ত্রে পা দিবেন না। সবাই এগিয়ে যান, আমাদের বিবেকের কষ্টিপাথরে যাচাই করে অবশ্যই আমরা সঠিক নেতা নির্বাচন করতে সক্ষম হব। আমরা চাই নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটু ভালো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হোক লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের আসন্ন নির্বাচনে। সবার জন্য শুভ কামনা রইল। জয় হোক ঐক্য প্রচেষ্টার।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সভাপতি-চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব, সদস্য-লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব।