মঙ্গলবার ৩রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারের নামে লুটপাটের ফন্দি

স্পোর্টস ডেস্ক :

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কারের জন্য ৯২ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থ বছরেই এই বাজেট পাচ্ছে এনএসসি। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে পুরো বিশ্বই চেনে। কারণ এই স্টেডিয়ামে খেলেছে আর্জেন্টিনা ও সুপার ঈগল খ্যাত নাইজেরিয়া ফুটবল দল। লিওনেল মেসি ও জিনেদিন জিদান মাতিয়ে গেছেন দর্শকদের। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেরও নাম এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এখানে নক-আউট বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ ক্রিকেট, এশিয়ান টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, এশিয়া কাপ হকি, বক্সার মুহম্মদ আলীর প্রদর্শনী ম্যাচসহ বিভিন্ন ইভেন্টে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়েছে।

স্টেডিয়ামটি ১৯৫৪ সালে তৈরি হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে প্রথম ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছিল। তখন ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ড বসানো হয়েছিল। কারণ তখন বাংলাদেশে প্রথম নক-আউট বিশ্বকাপ ক্রিকেট হয়েছিল। এরপর ২০১১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য গ্যালারীতে চেয়ার, লিফট, ভিআইপি বক্স নতুন ভাবে করা হয়েছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এই স্টেডিয়ামে হয়েছিল। ঐ সময় সংস্কারের জন্য প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। সবমিলে ঐসময়ে দুইবারের সংস্কারের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়েছিল ১০৯ কোটি টাকা।

শেষবার যখন সংস্কারে নকশার অনেক পরিবর্তন করা হয়েছিল। কারণ স্টেডিয়ামে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে বেজ থেকে শুরু করে, পিলার ও ভীমকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তত্বাবদায়ক সরকারের সময় প্রবল বৃষ্টিতে প্রেসবক্স ভেঙ্গে পড়েছিল। পরে সেটা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। মাঝে অনেক সময় কেটে গেছে, ৬৪ বছরের বুড়ো স্টেডিয়ামটি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। এখন আবারো সংস্কারের জন্য নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সংস্কারের জন্য প্রায় ৯২ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থ বছরেই এই টাকা পেয়ে যাবে এনএসসি। তবে এবার কোন টুর্ণামেন্টকে সামনে রেখে সংস্কার হচ্ছে না। শুধু নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য। স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজের জন্য ডিপিপি ( ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি শুরু করেছে এনএসসি। ডিপিপি তৈরি করে পাঠানো হবে মন্ত্রনালয়ে।

তারপর অনুমোদন দিবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সরকারের বাৎসরিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) এ প্রজেক্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে এনএসসি জানায়। এখন গ্যালারিতে চেয়ার রয়েছে ১৯ হাজারের বেশী। স্টেডিয়ামটি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্স। ফুটবলের ভরা মৌসুমের সময়ও গ্যালারি থাকে ফাঁকা। প্রশ্ন থাকে, কেন গ্যালারিতে বসানো হচ্ছে শেড ও উন্নত মানের চেয়ার ? স্টেডিয়ামটিতে দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে। ঐ সময় মাননীয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশী অতিথিরা উপস্থিত থাকেন স্টেডিয়ামে। তাই স্টেডিয়ামকে সুন্দর করে সাজোনোর জন্যই সংস্কার করা হবে। শেডের কারণে স্টেডিয়ামের ওপর অনেক ওজনের চাপ পড়বে তা হয়ত এনএসসির ইঞ্জিনিয়াররা ভুলেই গেছেন। এমনিতেই স্টেডিয়ামটি পুরোনো হয়ে গেছে। তারওপর প্রতিনিয়ত সংস্কার করে ওজনের ভোজা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে গ্যালরিতে শেড বসাতে। চেয়ার বসাতে ২০ কোটি টাকা। ফ্লাডলাইট পারিবর্তন করতে ২০ কোটি টাকা। আর অ্যাথলেটিক ট্র্যাক স্থাপনের জন্য ১৫ কোটি টাকা। গ্যালারি ও ভিআইপিদের চেয়ার সরিয়ে সেখানে নতুন করে বসানো হবে চেয়ার। এর মধ্যে ভিআইপি গ্যালারিতে বসানো হবে ফোল্ডিং চেয়ার। অথচ ভিআইপি বক্সেও চেয়ার সবই ভাল আছে। বদলে ফেলা হবে ফ্লাডলাইটও। তবে ফ্লাডলাইটের টাওয়ার ঠিক রেখে শুধু লাইট পরিবর্তন করা হবে। এই প্রথম বাংলাদেশের কোন স্পেডিয়ামে এলইডি লাইট লাগানো হবে। স্টেডিয়াম হবে আরে অলোকিত। ফ্লাডলাইট, চেয়ার শেড এবং অ্যাথলেটিক ট্র্যকের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হবে। ড্রেসিং রুমগুলো আধুনিকরণ, খেলোয়াড়দের জিমের ব্যবস্থা করণ, ডোপটেস্ট টেষ্ট রুম তৈরি, প্রেস বক্স আধুনিকরণ, টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য ক্যামেরা বসানোর স্ট্যান্ড তৈরি, স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ সিস্টেম ও দুটি জায়েন্ট স্ক্রিন মেরামত করা (২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের সময় তৈরি করা হয়েছিল)। অবকাঠামো উন্নতির পাশাপাশি এনএসসি মনোযোগ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফুটবল মাঠের দিকেও। আউটফিল্ড উঁচু-নিচু থাকায় তুলে ফেলা হবে সমস্ত মাটি। এছাড়াও নতুন করে বপন করা হবে ঘাস। এছাড়াও মাঠের চারদিকে বসানো হবে ডিজিটাল প্যারামিটার। সর্বোপরি স্টেডিয়ামের চারিদিকের রাস্তা মেরামত করা হবে। শেষে স্টেডিয়ামকে রং করে রঙ্গিন করা হবে। যাতে করে দুর থেকে সুন্দর দেখা যায়।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বিশ্বের একমাত্র স্টেডিয়াম যেটিতে দুটি ভিন্ন দেশের উদ্বোধনী টেস্ট ম্যাচ হয়েছে। দুটি টেস্ট ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। প্রথম ১৯৫৪-৫৫ সালে তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার মাধ্যমে টেস্ট অঙ্গনে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে এই স্টেডিয়ামে ৭টি টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল। এর ৪৬ বছর পর ২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা লাভের পর ঐ বছরই ১০ ডিসেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট ম্যাচটি খেলেছিল। এক সময় স্টেডিয়ামে ৬০ হাজার লোক খেলা দেখত। চেয়ার বসানোতে এখন ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার।

১৯৯৮ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে ছিল। ঐ সময় ব্যপক সংস্কার করা হয় প্রথম নক-আউট বিশ্বকাপের (বর্তমানে যা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) জন্য। ঐ সময় ৪র্থ তলায় তৈরী করা হয়েছিল কর্পোরেট বক্স। যা এখন অযতেœ সব নষ্ট হয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তখন পশ্চিমদিকে বসানো হয়েছিল ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ড। ২০০৫ সালে ক্রিকেট বোর্ড মিরপুরে চলে গেলে তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। মিরপুর স্টেডিয়ামে স্থাপন করলেও দেশের অনেক টাকা বেচে যেত। কিন্তু সবাই চিন্তা করে শুধু নিজের পকেট ভারী করার জন্য। ফুটবলও সেই ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডটি ব্যবহার করেনি। রাতের অন্ধকারে ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ডটির কি হয়েছিল কেউ জানতেও পারেনি। ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, এই স্টেডিয়ামকে সংস্কারের নামে প্রচুর অর্থ অপচয়ও হচ্ছে। তাই আর সংস্কার না করে নতুন ভাবে তৈরি করলে বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে নয়নাবিরাম স্টেডিয়াম হবে। সরকারেরও উচিত বিষয়টি নিয়ে ভাবা। সংস্কারে আর ব্যয় না করে খেলার উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১