আকাশবার্তা কৃষি সমাচার :
দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মধু উৎপাদনে শাহজাদপুর উপজেলায় এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় হাজার টন মধু আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মৌ-চাষিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলী মাঠে সাতক্ষীরা থেকে আগত মৌ চাষীরা বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। উপজেলার কায়েমপুর নতুন মসজিদের সামনের মাঠে মৌ চাষী শাহীন আলম (৪০) এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে তারা ৬/৭ মন মধু সংগ্রহ করছেন। যা বর্তমান প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৬০ মৌ বাক্সে ৭ দিনে ২৫ মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে।
যার বাজার মূল্য তিন লাখ টাকা বলে জানা গেছে। তিনি জানান, এ উপজেলায় প্রায় কয়েকটি মৌ চাষির দল প্রায় দুই কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করলেও চাষির অভাবে শুধু এ উপজেলায়ই কোটি কোটি টাকা মধু শুকিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান হাইব্রিড এপিস মেলিফেরা মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরিষা মাঠ। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি উড়ে গিয়ে সরিষা ফুলে বসছে। কিছুক্ষণ পরপর মধু নিয়ে উড়ে এসে মৌমাছির দল ফিরছে মৌ-বাক্সে। মৌচাষিরা সরষে ক্ষেতের আলে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার মৌ বাক্স বসিয়েছেন। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সরষে ফুলের মধু আহরণ চলে। এ সময়ে একেকজন মৌচাষি গড়ে দুই থেকে আড়াই টন মধু আহরণ করতে পারেন।
এ বিষয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানান, অতীতকাল থেকে মধু বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মধু পরিপাকে সহায়তা করে, ক্ষুধা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, সর্দি, কাশি, জ্বর, হাঁপানি, হৃদরোগ, পুরনো আমাশয়, দাঁত, ত্বক, পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগ নিরাময় করে থাকে। এছাড়াও মধুতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও ভেষজগুণ রয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মঞ্জুরুল আলম জানান, উপজেলার প্রায় সর্বত্রই সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ হচ্ছে। আগামীতে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।