ক্রীড়া প্রতিবেদক :
হাসান মাহমুদ (১৯)। তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড বাঞ্চানগর গ্রামের মমিন ভেন্ডার বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবি মো. ফারুকের ছেলে। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে হাসান সবার ছোট। তাই পরিবারে সবার প্রিয় ও আদরের সে। অন্যদিকে হাসানের পরিবার খুবই ধর্মভীরু। তাই শান্ত, ভদ্র হাসানকে পড়ালেখা করান লক্ষ্মীপুর আলীয়া মাদ্রাসায়। সেখান থেকে ২০১৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৪৪ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে সে জেলায় একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের শেষ দিকে জেলা ক্রিকেট একাডেমীতে ভতিী হয় হাসান। তখন নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। নিয়মিত প্যাক্ট্রিস করত। ফলে ২০১৩ সালে জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে বান্দরবন জেলা স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তার অভিষেক হয়।
সেখানে ভালো খেলায় সে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৪ দলে সুযোগ পায়। সেখানে খেলেই সে জাতীয় নির্বাচকদের নজরে পড়ে। খেলার সুযোগ পায় জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলে। সেখানে ভালো কিছু করতে পারেনি সে। চলে আসেন আবার নিজ জেলায়। খেলেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে। জেলা ক্রিকেট একাডেমীর কোচার মনির হোসেন তাকে নিবিড় তত্ত্বাবধান করতে থাকেন। তাতে তার উন্নতি বেশ হচ্ছে। আর এখানে খেলেই সে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ হয়। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে হাসানের একক বলের দাপটে জয় পায় বাংলাদেশ।
তারপর ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলে সে। এখানেও ভালো খেলার ফলে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে তার জায়গা হয়। সেখানে যাওয়ার পর গেম ডেভেলপমেন্টের অধীনে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণের পর তার আগের চেয়ে আরো বেশি পরিবর্তন হয়। যার ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ১৪ সদস্যের মধ্যে তার জায়গা হয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ইনজুরির কারণে সে খেলতে পারেনি। এরপর সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দেশের মাটিতে আফগানিস্তান ও নেপালের সাথে খেলে। এতে তার সাফল্য আসে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এবারের আসরে খুলনা টিমে তার থাকার সুযোগ হয়। কিন্তু কিছুদিন পর যুব বিশ্বকাপ থাকায় জাতীয় দল তাকে সেখানে খেলতে দেয়নি। এছাড়াও সে দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় বিভিন্ন টুনামেন্ট খেলেছে। বর্তমানে সে দেশের বাহিরে যুব বিশ্বকাপে খেলছে। সেখানেও সে পাঁচ ম্যাচ খেলে নয় উইকেট পায়।
হাসানের সফলতার অর্জনগুলো হচ্ছে ২০১২-১৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ। ২০১৬ সালে রবির ফাস্ট বোলার হান্ট পুরস্কার পান। এছাড়াও সে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টুর্ণামেন্টের অনেক পুরস্কার পান। হাসান দেশের বাইরেও খেলেছেন।
হাসানের বাবা মো. ফারুক একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, ছোট বেলা থেকেই হাসান খুব শান্ত, ভদ্র ও ধর্মভীরু ছিল। সে ক্রিকেট খেললে কখনো তাকে বাধা দিতাম না বরং উৎসাহ দিতাম খেলার জন্য। হাসান যখন বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে জেলা ক্রিকেট একাডেমীতে ভর্তি হয় তখনও তাকে বাধা দেইনি। যখন যা প্রয়োজন ছিল তাকে দিতাম। শুধুমাত্র সে যেন খারাপ আড্ডা, মাদকের সাথে জড়িয়ে না যায়। এটাই ছিল আমার প্রধান উদ্দেশ্য।
হাসানের বাসায় তার বাবা-মায়ের সাক্ষাতকার গ্রহণের জন্য গেলে সেখানে দেখা হয় জেলা ক্রিকেট একাডেমির ও তার প্রিয় কোচ মো. মনির হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, একডেমিতে ভতিী হওয়ার পর হাসানের মাঝে আমি ধারুণ এক প্রতিভা দেখতে পাই। তার রানআপ, গ্রেদার, ব্রেকফুট ল্যাডিং, রিলিজ, বোলিং স্পাই, ফলো থ্রো ও আউট সোয়িং আমাকে মুগ্ধ করে। তাই তাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বর্তমান তার সফলতায় খুবই আনন্দিত।