-
- গণমাধ্যম, জাতীয়
- আমার সংবাদ-এর পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- আপডেট : February, 13, 2018, 4:12 am
- 493 জন পড়েছেন
প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:৪২, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, গণমাধ্যম নিরপেক্ষ নয়, বস্তুনিষ্ঠ হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস করেছিলেন। প্রথমত. বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিয়েছেন, দ্বিতীয়ত. আধুনিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের পথ দেখিয়েছেন, তৃতীয়ত. বাঙালিরা যে বীরের জাতি এটি বঙ্গবন্ধু আবিষ্কার করেছেন। তিনি ইতিহাসে চির অমর হয়ে আছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের আরেক বাঁকে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমত. ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা আবিষ্কার করেছেন, দ্বিতীয়ত. স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেউ করতে পারেননি; প্রধানমন্ত্রী এসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। এই দুটি কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের পাতায় বহুদিন চির অমর হয়ে থাকবেন। শেখ হাসিনা একজন রাজনীতিকের পাশাপাশি একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতীভা প্রকাশ করেছেন।
গতকাল সোমবার দৈনিক ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকার পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদক হাশেম রেজার সভাপতিত্বে ডিএম সাকলায়েনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত অতিথি আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট, দক্ষিণ সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাইদ প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিরপেক্ষ নয়, গণমাধ্যমেরও একটি পক্ষ আছে তা হচ্ছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সত্যের পক্ষ। সেখানে ন্যায়-অন্যায়কে এক পাল্লায় মাপা যাবে না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ। সামরিকের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষ নিতে হবে গণমাধ্যমকে। এখানে গণমাধ্যমের একটা বিরাট ভূমিকা হচ্ছে সমাজ, নারী, শিশু ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে জনগণের কণ্ঠস্বর হতে হবে। অপরাধী ও অপরাধের প্রতি সহানুভূতি গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব অপরাধ ও অপরাধীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
দৈনিক ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলতে চাইÑ আপনার পত্রিকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। অপরাধীদের প্রতি কখনো সহানুভূতি দেখানো যাবে না বলে জানান ইনু।
তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দের আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। উনি আদালতে নিয়মিত গিয়েছেন, আদালতকে স্বীকার করে নিয়েছেন। সাজা হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে যদি বিএনপি চিৎকার করে তাতে লাভ হবে না। এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা রাজনৈতিক নয়। এই মামলার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে সাজা ভোগ করছেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা কি? এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমে মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বাধীনতা দিয়েছেন। ৯ম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করেছেন। গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হবে। কিন্তু সেই আলোচনা হতে হবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ।
ওমর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, আমার সংবাদ সর্বদা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করছে এবং করবে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা মানে ভালো-খারাপ এক মানদ-ে বিচার নয়। নিরপেক্ষ মানে ভালো-মন্দ, ন্যায়Ñঅন্যায় ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্য পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা। ভালোর পক্ষে কথা বলা। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে পূর্বের মতো ভবিষ্যতে আমার সংবাদ এগিয়ে যাবে। সংবাদ যেন হয় গণ-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। মানুষকে আলোকিত করার জন্য আমার সংবাদ সর্বদা কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, যেখানে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে সৎ সরকারপ্রধানের একজন। আর অন্য একজন রাজনৈতিক নেতা সেরা দুর্নীতিবাজদের একজন। যেখানে একটি দল দুর্নীতিবাজদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সেখানে অন্য একটি দল গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতিবাজদের উন্মুক্ত করেছে। এই দুটি দলকে একইভাবে মূল্যায়ন করা নিরপেক্ষতা নয়। নিরপেক্ষতা মানে কি অতীত দুর্নীতি গোপন রাখা? সত্য বলা, সত্য প্রকাশ করাই হলো নিরপেক্ষতা।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে খাম্বা দুর্নীতি হয়েছে। আর এখন কোনো লোডশেডিং নেই, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। যেখানে আগে শিক্ষার্থীরা বই পেতেন না, সেখানে বছরের শুরুতে দেশে বই উৎসব হয়। এই দুইকে এক করে দেখা নিরপেক্ষতা নয়। আশা করছি আমার সংবাদ পূর্বের ন্যায় ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।
আমার সংবাদ সম্পাদক হাশেম রেজা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার মানবকন্যা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার নেতৃত্বে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। তিনি তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে চায়, স্বাধীনভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে চায়। এখন সংবাদপত্রের মালিক যদি বেঁচে না থাকে সাংবাদিকরা কোথায় যাবে। পত্রিকায় একটা সরকারি বিজ্ঞাপন ছিলো। যা ই-টেন্ডার হয়ে এখন অনলাইন পত্রিকায় চলে গেছে। এখন আমাদের কঠিন সমস্যা হচ্ছে। আগে ৮০ ইঞ্চি বিজ্ঞাপন এখন ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি হয়ে গেছে। কীভাবে এই সংবাদপত্র শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবে মালিকরা। মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধÑ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলবেন, আমাদের বাঁচানোর জন্য। তাহলে সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে। সাংবাদিকদের পেটে ক্ষুধা থাকলে তারা কীভাবে সত্য কথা লিখবে। ক্ষুধা থাকলে তারা হলুদ সাংবাদিকতায় ঝুঁকবে। এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমার সংবাদের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার সংবাদ এখন সারাদেশে যাচ্ছে। আগামীতে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে আমার সংবাদ পৌঁছানো চেষ্টা নেয়া হবে।
এই বিভাগের আরও সংবাদ