বিশেষ সম্পাদকীয়
জানি বাস্তবে আর কখনও ফিরে আসবেনা উদীয়মান তরুণ সাংবাদিক শাহ্ মনির পলাশ। কিন্তু বার বার তুমি ফিরে এসো আমাদের স্মৃতিতে। তোমার আকস্মিক অনাকাঙ্খিত মৃত্যু হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সকল সাংবাদিকের অন্তরে। সর্বদা মিষ্টি হাসি মাখা পলাশের সাথে আমার ব্যক্তিগত তেমন একটা সম্পর্ক ছিলনা। তবুও কর্মক্ষেত্রে কোথাও দেখা হলে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলতো ভাই কেমন আছেন? উত্তরে আরেকটি মুচকি হাসি দিয়ে জবাব দিতাম ভালো আছি।
আমি পলাশকে চিনি চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম স্বপনের ক্যামেরা পারসন হিসাবে। পাশাপাশি সে পড়ালেখা এবং দৈনিক রূপবাণী পত্রিকায় জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করতো। সাংবাদিকতা পেশায় একেবারে নতুন মুখ হলেও ভিডিও ফুটেজ তৈরীতে ভালো অভিজ্ঞতা ছিল তার। সদা হাসোজ্জল পলাশ এতটা অল্প সময়ে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। এরই মধ্যে শাহ্ মনির পলাশের খুনের ঘটনার মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি সাংবাদিক সমাজকে আরো বেশি ব্যথিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকের একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা রোড এ্যাকসিডেন্ট হিসাবে লিপিবদ্ধ হয় কীভাবে? আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সঠিক মেডিকেল রিপোর্টের মাধ্যমে খুনিদের বিচার প্রত্যাশা করছি।
সাংবাদিক পলাশের মৃত্যু রাজনৈতিক না হলেও সমাজ ব্যবস্থার অপশাসন এর জন্য দায়ী। সমাজ ব্যবস্থার অপশাসনের কারণে অকালে ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। তার মৃত্যুতে অপুরণীয় ক্ষতি হলো একটি পরিবারের। যে ক্ষতি পুরণ করার সাধ্য কারো নেই। তবে শান্তনা পাবে যদি পলাশ হত্যার সঠিক বিচারটি পায় তার পরিবার। আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সঠিক তদন্তপূর্বক খুনিদের বিচারের সম্মুখীন করবে।
তবে কথা হচ্ছে, একজন পলাশের মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের হৃদয় কতটা ব্যথিত করেছে। আমরা পারবো, নেতৃত্বের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে সব সাংবাদিককে একটি প্লাটফর্মে একত্রিত করতে? যদি না পারি, তার ব্যর্থতা কার? এই প্রশ্ন রেখে আমার লেখা শেষ করলাম।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে দৈনিক রূপবাণী পত্রিকার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি শাহ্ মনির পলাশকে (২৮) তার দুই জেঠাতো ভাই পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতিতে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার মৃত্যু হয়।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সম্পাদক-আকাশবার্তাবিডি ডটকম/ সভাপতি-চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব, লক্ষ্মীপুর।