নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বেকার যুবকদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম শুরু করেছে মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনোলজি নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলতে আকর্ষণীয়ভাবে লিপলেট, পোস্টার ও ব্যানার ছাপিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ না করলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সর্বশান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএমএসএস, এসভিডিডিও এবং ইডব্লিওএমআইটি’র ব্যানারে এ প্রতিষ্ঠানটি সংগঠিত করছে এসএএইচডিও নামের একটি সংস্থা। বিভিন্ন মেয়াদে প্যারামেডিকেল, ডেন্টাল, নার্সিং, ফার্মেসী, ডিএমএ, সিএমএস, ল্যাবরেটরী, এমসিএইচসি (শিশু) ও ভিডিআরটিসহ মোট ৯টি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির কথা বলে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রতারক চক্রটি। এছাড়াও প্রতিমাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে বেতন আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ‘মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনোলজি’ নামের প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক সংলগ্ন নন্দন কমিউনিটি সেন্টার ভবনের নীচতলায় দুইটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া আর কোনো অফিস কিংবা একাডেমিক ভবন নেই ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পরিচয়দাতা মো. হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ টেকনিক্যাল শিক্ষাবোর্ড থেকে অনুমোদন নিয়ে লক্ষ্মীপুরে কার্যক্রম শুরু করেছে মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনোলজি। অথচ লিপলেট, পোস্টার, ব্যানার এবং ভিজিটিং কার্ড ব্যতিত অনুমোদনের গ্রহণযোগ্য কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ জানান, মেডিকেল ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনোলজি নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান লক্ষ্মীপুরে নেই। তবে যারা এ নামে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছেন, তাদেরকে বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম লক্ষ্মীপুরে চলতে দেওয়া হবেনা।
উল্লেখ্য, বছর দুয়েক আগেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিএমএসএস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট নামে একটি ভুয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ শিক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী বেকার যুবকদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।