আকাশবার্তা ডেস্ক :
গতকাল শনিবার ভোরে রাজধানীতে আবারও ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিংয়ের পার্শ্ববর্তী কাঁচাবাজারের সামনে রাখা একটি ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে এক মেয়ে
নবজাতকের দেখা পান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নারী পরিচ্ছন্নকর্মী (ঝাড়ুদার)। এরপর তার দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে ওই নবজাতককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ জানান, ভোরবেলা ডিএনসিসির এক নারীকর্মী ময়লা পরিষ্কার করতে এসে শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে দেখেন কাপড়ে পেঁচানো এক মেয়ে নবজাতক। তখনও শিশুটির শরীরে সদ্যজন্ম নেওয়ার আভা স্পষ্ট।
পরে ওই নারীকর্মী বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন এক পরিদর্শককে জানালে তিনি থানায় সংবাদ দেন। এরপর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তাকে চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদপুর টেম্পুস্ট্যান্ড সংলগ্ন গ্লাস আরমান হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটিকে দেখাশোনা করছেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন।
জন্মই ‘আজন্ম পাপ’। ঘৃণা, লোকলজ্জা, সমাজের চোখরাঙানি ও তিরস্কারের কষ্টগাথা মায়ের হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। জন্মের পরই মা-বাবার কোলের বদলে ডাস্টবিনে, ড্রেনে, ফুটপাত ও হাসপাতালের আঙিনায় অনেক নবজাতকের ঠাঁই হচ্ছে। আবার ডাস্টবিন, জঙ্গলে এসব নবজাতককে কুকুর, পিঁপড়া আক্রমণ করছে। অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের দেশের সামাজিক রীতি-নীতি আর না মানার কারণে এসব ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ এই অনাগত সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার কত না রঙিন স্বপ্ন থাকে।
মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এলে কী নামে তাকে ডাকা হবে এ নিয়ে ভাবনার অন্ত থাকে না। এই ধরণীতে নতুন অতিথি আসার আগেই অনেক বাবা-মা নতুন খেলনা ও পোশাক কিনে তাদের ঘর ভরে রাখেন। এমন ভালোবাসা চিরন্তন। বাঙালি জননীর হৃদয়-মনজুড়ে তার সন্তান। তাকে ‘দুধে-ভাতে’ বড় করার স্বপ্ন। আবার এই স্বপ্ন ও ভালোবাসার বিপরীত চিত্রও অন্ধকারের কালো নিকষে ভরা। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসার ছিটেফোঁটার চিহ্নও নাই। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রায়ই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে পরিচয়হীন নবজাতক। আর প্রতিনিয়তই এধরনের ঘটনা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মানবশিশু জন্মের পরই তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু আমার পুলিশের চাকরির জীবনে নবজাতক উদ্ধারের কোনো ঘটনায় নবজাতকের বাবা-মা’কে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দেখি নাই।