আদালত প্রতিবেদক :
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মুত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামি লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদের জামাতা ফুয়াদ জামানকে ৩ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩সেপ্টেম্বর) তাকে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান পুলিশ। আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল করে জামিন চান। ঢাকার অতিরিক্ত সিএমএম কায়সারুল ইসলাম উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে ৩ দিনের রিমাণ্ডে মঞ্জুর করেন।
রিমাণ্ডে প্রতিবেদনে বলা হয়- আসামি ফুয়াদ জামান ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্টে ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রশংসা করে এবং বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে গত ১৫ আগস্ট একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।
এর প্রেক্ষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ধানমন্ডি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় হাতিরঝিল গ্রেপ্তার করা হয়। কি উদ্দেশ্যে এবং কেন সে এই ধরনের বক্তব্য ফেসবুকে প্রচার করেছে তার মূল রহস্য এবং তার সাথে জড়িতদের কে গ্রেপ্তারের জন্য ৭ দিনের রিমাণ্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। তারপর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দণ্ডিত সুলতান শাহরিয়ার রশিদসহ পাঁচজনের ফাঁসি ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি কার্যকর হয়। বাকীদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন। মৃত্যুণ্ডে দণ্ডিত আসামি লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের মেয়ে শেহনাজ রশিদ খান, ফুয়াদ জামানের স্ত্রী।