নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে সহকর্মীকে মারধর করার ঘটনার বিচার চাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জান্নাতুল আঁখি নামের এক নারী কারারক্ষী। তিনি একই কারাগারে কারারক্ষী মো. মহিমের স্ত্রী। এদিকে ঘটনার বিচার চাওয়ায় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ শাহআলমের বিরুদ্ধে আঁখি ও তার স্বামী মো. মহিমকে চাকররীচ্যুতির হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আঁখি সাংবাদিকদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে জেলা কারাগারে চলছে উত্তেজনা ও চরম ক্ষোভ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আঁখি ও তার স্বামী মহিম কারাঅভ্যন্তরের কোয়াটারেই থাকেন। সম্প্রতি তাদের বাসায় একজন মেহমান আসেন। অন্য কারারক্ষী ফারজানা ওই মেহমানকে হাজতির আত্মীয় ভেবে তাদের বাসায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তল্লাশী চালায়। এ সময় আঁখি ও ফারজানার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আঁখির ওপর চড়াও হয়ে উঠেন ফারজানা এবং তাকে মারধর করেন। এতে বাধা দিলে মেহমানকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে জেলার এবং জেল সুপারের কাছে অভিযোগ করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। পরে বিষয়টি কারা উপ-মহাপরিদর্শককে জানালে জেলার শাহআলম আরো ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেন আঁখি ও তার স্বামী মহিমের ওপর। একপর্যায়ে তাদেরকে অন্যত্র বদলি এবং চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন তিনি।
এ ব্যাপারে কারাগারের কয়েকজন রক্ষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, জান্নাতুল আঁখি ও ফারজানার মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ দিকে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয়রা এবং অন্যান্য কারারক্ষীরা জানান, জেলার শাহআলম যোগদানের পর থেকে কারারক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। নানা অভিযোগের কথা বলে কারারক্ষীদের চাপে রাখেন তিনি। কারা ক্যান্টিনে সকল পণ্যসামগ্রীর তিনগুণ দাম নেয়া হয় বন্দিদের কাছ থেকে। এ নিয়ে কেউ কিছু বললে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে থাকেন।
অভিযোগকারী জান্নাতুল আঁখি বলেন, ফারজানা আমার বাসায় এসে আমাকে ও আমার মেহমানকে মারধর করেন। বিষয়টি কারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে জেলার আমাদের ওপর ক্ষীপ্ত হয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লি¬ষ্টদের নিকট এ ঘটনার সুবিচার দাবি করেছেন তিনি।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর কারাগারের জেলার মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, কারারক্ষী জান্নাতুল আঁখির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি জেল সুপার ফণী ভূষণ চক্রবর্তী।