আদালত প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে ড্রাইভার নাজমুল আহসান হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এ রায় প্রদান করেন, লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. শাহেনূর।
দন্ডিতরা হলেন, সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহিমের ছেলে কামরুল হাসান রাব্বি (২১), শ্রীরামপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে মো. রুবেল (২১), আবদুল ওয়াদুদের ছেলে মো. মানিক (২৩) এবং বড়ালিয়া গ্রামের আবদুল হাইর ছেলে মো. রিয়াজ (২৫)। দন্ডিত সকল আসামি পলাতক রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১২ জুন ঢাকার উত্তরা থেকে ভুয়া পরিচয় দিয়ে একটি রেন্ট-এ কার ভাড়া করে আসামিরা। ওইদিন রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের তোতারখিল এলাকায় এনে ভাড়াকৃত গাড়িটির ড্রাইভার নাজমুল আহসানকে কুপিয়ে হত্যা করে তারা। নাজমুল আহসান চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হুজাপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন মালু’র ছেলে। এ ঘটনায় ২২ জুন, ২০১৩ সালে গাড়ির মালিক শাহীন তারেক বাদি হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শাহীন তারেক ঢাকা দক্ষিণখান এলাকার সিরাজ উদ্দিন আহমদের ছেলে। পরে চাঁদপুর থেকে ওই গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরই সূত্র ধরে কামরুল ও রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায় এ হত্যার রহস্য। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর ৪ জনকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। ১০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় দিয়েছেন আদালত।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন বলেন, ড্রাইভার নাজমুল আহসান হত্যা মামলায় ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। ৩০২/৩৪ ধারা মোতাবেক স্বশ্রম যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ৪২০ ধারা মোতাবেক প্রত্যেক আসামিকে আরো পাঁচ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। তবে এ মামলার প্রত্যেক আসামি পলাতক রয়েছে।