আকাশবার্তা ডেস্ক :
মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর বিকিরণের (রেডিয়েশন) বিষয়ে সমীক্ষা করে চার মাসের মধ্যে বিটিআরসি’কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারাগার, খেলার মাঠ ও জনবসতিপূর্ণ ও প্রত্মতাত্তিক এলাকা থেকে ক্ষতিকর বিকিরণ ছড়ানো টাওয়ার সরানোসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, রিট আবেদনটি চলমান থাকবে।
জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৫এপ্রিল) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
এর আগে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ হাইকোর্টে দাখিল করা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন (তেজস্ক্রিয়তা)এর মাত্রা উচ্চ পর্যায়ের। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি টাওয়ার স্থাপন ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে নীতিমালঅ প্রণয়েনের সুপারিশ করেন। পরে বিটিআরসি একটি নীতিমালা আদালতে জমা দেয়।
২০১২ সালে এইচআরপিবি রিট দায়ের করলে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বেত বেঞ্চ মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ন্ত্রনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ওই সময় হাইকোর্ট বিকিরণের মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কয়েকটি মোবাইল ফোন টাওয়ার পরিদর্শন করে রেডিয়েশন বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন।
এছাড়াও সাত দিনের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়ে। এই কমিটিতে বিজ্ঞানী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এই কমিটিকে মোবাইল টাওয়ার থেকে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ২০১৭ সালের ৮ মার্চ নীতিমালা ও পরবর্তীতে তা সংশোধন কওে দাখিল করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নীতিমালা প্রণয়নের আগে একটি সমীক্ষা করা প্রয়োজন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে এরসঙ্গে জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্য ঝুকি সম্পৃক্ত।