বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

লক্ষ্মীপুরে ভিটেমাটি হারিয়ে পরিবার নিয়ে প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে ভিটেমাটি হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জুলফিকার আলী মামুন (৩৬) নামে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী। পরিকল্পিতভাবে বসতঘর ভাঙচুরের মাধ্যমে এই পরিবারটিকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামুন সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেহধর্মপুর গ্রামের মরহুম আবদুস সাত্তারের একমাত্র ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। ভিটেমাটি হারিয়ে এক প্রতিবেশির ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। গত ৫ মাস যাবত ওই ঘরেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মামুন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামুনের বাবা আবদুস সাত্তার একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। তিনি যখন মারা যান, তখন মামুনের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। এসময় কৌশলে নাবালক মামুনের নামের সকল সম্পত্তি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নেন মামুনের মা ফাতেমা বেগম। কেন তিনি একমাত্র ছেলেকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, সেই বিষয়ে কোনো সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ২৫ জুন মামুনের বসতঘর ভাঙচুর করে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এসময় মামুন ও তার স্ত্রী শাহীনুর বেগমকে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়। সম্পত্তির লোভে ভুক্তভোগী মামুনের মা, দুই বোন ও ভগ্নিপতিরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায়। এ নিয়ে গত ২৬ জুন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদি মামুনের স্ত্রী শাহীনুর বেগম।

এ মামলার আসামিরা হলেন- ভুক্তভোগী মামুনের ভগ্নিপতি ইসমাইল হোসেন, বোন জান্নাতুল ফেরদাউস সুমি ও রিংকু বেগম, প্রতিবেশি মো. খোকন এবং মো. হোরন। তারা সকলেই সদর উপজেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী মামুনের বসতঘরটি ভেঙে পড়ে আছে। এর পাশেই একটি চৌচালা টিনের ঘরে একাই বসবাস করছেন মামুনের মা ফাতেমা বেগম। অন্যদিকে মামুন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিরাহিমপুর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। সম্পত্তির লোভে একজন মা নিজের একমাত্র ছেলেকে ভিটেমাটি ছাড়া করার বিষয়টি খুবই লজ্জার ও দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তারা।

জুলফিকার আলী মামুন বলেন, আমার বাবা আবদুস সাত্তার একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। তিনি যখন মারা যান, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সেই সময় টাকা-পয়সা কামাই করার জন্য মা আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরের বছর বাবার পেনশনের টাকা তোলার কথা বলে আমাকে বাড়িতে ডেকে আনেন। তখন আমাকে ভুল বুঝিয়ে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত আমার সকল সম্পত্তি মা নিজের নামে লিখে নেন।

তিনি আরও বলেন, আমি এতদিন কিছুই জানতাম না। আমার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে নিজের জমিতে ঘর করে বসবাস করছিলাম। হঠাৎ করে আমার মা জানিয়ে দেন, আমার কোনো সম্পত্তি নেই। এরপর পরিকল্পিতভাবে আমার বসতঘর ভাঙচুর করে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়।

মামুনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, মামুনের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। অনেক আগেই তার সব সম্পত্তি আমি কিনে নিয়েছি। সেসব টাকা ব্যবসা করে নষ্ট করেছে। সে এতদিন আমার জায়গায় ঘর করে ছিল। এখন তাকে আমার জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে নাবালক সন্তানকে ভুল বুঝিয়ে নিজের নামে সম্পত্তি লিখে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

আরএইচএ/এবি

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০