আকাশবার্তা ডেস্ক :
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতা বাদী হয়ে সাক্কু ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা জেসমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে রমনা থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে মামলা থেকে সাক্কুর স্ত্রীকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগপত্রে সাক্কুর বিরুদ্ধে বলা হয়, ১ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যাপারে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘আমি ওই মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় আমি সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থায়ী জামিন নিয়েছি। তবে আমার আইনজীবী বিষয়টি আদালতের কাছে উল্লেখ না করায় এ অবস্থা হয়েছে। আগামীকাল আদালতে এ-সম্পর্কিত নথিপত্র উপস্থাপন করব।’
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন দ্বিতীয়বারের মতো নগরপিতা নির্বাচিত হন সাক্কু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্রী ছিলেন নৌকা প্রতীকের আনজুম সুলতানা। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে ২০১২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাক্কু মেয়র নির্বাচিত হন। তখন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কুমিল্লার প্রবীণ নেতা আফজল খানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত করেন। এবারের নির্বাচনে সেই আফজাল খানের মেয়ে আনজুম সুলতানা সীমাকে পরাজিত করেন মনিরুল হক।
সূত্র : আমার সংবাদ/আকাশবার্তা