লাইফস্টাইল ডেস্ক :
বর্ষবরণের প্রস্তুতি নেই, নেই মঙ্গল শোভাযাত্রার তাড়া। তবু সময়ের নিয়মে দিন যায়, দিন আসে। বছর ঘুরে এসেছে আবারও বাংলা নববর্ষ। উৎসবের এই দিনটি ঘরেই কাটাতে হবে নিজের ও পরিবারের সবার সুস্থতার জন্য। যদিও এখন বিমর্ষ সময়, উৎসব করার নয়। তাই বলে কি বছর শুরুর দিনটিও মন খারাপ করে বসে থাকবেন?
এবার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে মানা। তাই ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে পালন করা যেতে পারে পহেলা বৈশাখ।
১. উৎসবে আনন্দে কাটান সময়
পহেলা বৈশাখের সকাল। বাইরে বের হবার উপায় নাই তো কী? বাসায় সবাই মিলে লাল-সাদা জামাকাপড় পরা যেতে পারে। পান্তা আর ইলিশ খাওয়া, গল্প আর আড্ডায় সকালটা এভাবেই পার হয়ে যাবে। বৈশাখে শহরকেন্দ্রিক মোটামুটি সবাই প্রিয়জন বা বন্ধুদের সঙ্গে সকাল সকাল বের হয়; কিন্তু এবার বের হওয়া যাবে না। কোনো সমস্যা নেই, গ্রুপ ভিডিও কলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন।
কে কিভাবে সেজেছ, কী পরেছ, কী করবে সারা দিন বন্ধুদের শেয়ার করুন। আলপনা আঁকা কারো কারো শখ। তারা ঘরে আলপনা আঁকতে পারেন। রঙিন মুখোশ বানানোর চেষ্ঠা করতে পারেন। নিজেদের বাড়িটাকে খুব সুন্দর করে সাজাতে পারেন। গান গাইবার চর্চা থাকলে পরিবারের সবাই মিলে বৈশাখের গানগুলো একসঙ্গে সুর তুলতে পারেন। বাড়ির শিশুদের জন্য সময় দিন। তাদের নিয়ে আনন্দে মেতে উঠুন উৎসবের সাজে।
২. খাবারে আনুন দেশী আমেজদেশীয় খাবার রান্না পারেন ঘরের কমবেশি সবাই। তাই পহেলা বৈশাখের দিন বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, ইলিশ ভাজাসহ মুখোরচক খাবার তৈরি করতে পারেন বাড়িতেই। করা যেতে পারে সরষে ইলিশ রান্না। খাবারের মেন্যুতে আনতে পারেন বৈশাখের আমেজ। আগ্রহ থাকলে পান্তা ইলিশও তৈরি করতে পারেন। এবার বাসাতেই থাকতে হচ্ছে তাই খাবার ঘরে প্রতিটি খাবারই পরিবেশনা করুন উৎসব দিনের মতোই। অলস বিকালটায় মুরালি, লবঙ্গ লতিকা, গোলাপজামনসহ নানা ধরনের মিষ্টি বা পিঠা তৈরি করেও সময় কাটিয়ে দিতে পারেন। রেসিপি না জেনে থাকলে ইউটিউব থেকে সহজেই বিভিন্ন ধরনের পিঠার রেসিপি পেয়ে যাবেন।
৩. সোশ্যাল মিডিয়াতে থাকুন
বাড়িতেই ভিন্ন এক বৈশাখ কীভাবে কাটালেন, সারা দিন কী কী করলেন? কী বানালেন? তার ছবি তুলে রাখেন শখের স্মার্টফোনটিতে। দিনশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড দিন। বাসায় গানের আসরের ভিডিও বানিয়ে আপলোড করা যেতে পারে। রান্না, ঘর সাজানোর জিনিস বা আলপনা আঁকা যেকোনও জিনিসের ভিডিও করেও দিতে পারেন। যেন বাকিরা কিছু আইডিয়া পেতে পারে। ঘরেই বিভিন্ন আয়োজন করে এবারের পহেলা বৈশাখ সুন্দরভাবে কাটিয়ে দেবার জন্য মনস্থির করে ফেলেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর কারণে এই দুঃসময়ে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।