বিশেষ প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউপির দোয়ালিয়া বাজার গ্রামে মৎস্যচাষীর মাছের প্রজেক্ট জবরদখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে স্থানীয় খামার বাড়ির আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল মতিন বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ আমলে না নিয়ে ওই ইউপি মেম্বার ভুক্তভোগীর মৎস্য প্রজেক্ট জবরদখল করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন জানান, আমার মৎস্য প্রজেক্ট জবরদখলে ব্যর্থ হলে চাষাবাদকৃত মাছের ক্ষতিসাধন করতে পারে ইউপি মেম্বার ইকবাল হোসেন। এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউপি মেম্বার ইকবাল হোসেন সরকারি বিধিবর্হিভূতভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি সুলতানপুর হানিফ ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজের ল্যাব এসিষ্ট্রেন্ট হিসাবে চাকুরী করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালের ৬ই জানুয়ারী ও ২৯ মে তারিখে দুই দফায় ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধে ১৪৬নং দোয়ালিয়া বাজার মৌজায়, সাবেক ৭০, হালে ১০১নং দাগে ৯ শতাংশ জমির ছাপকবলা ক্রয়মূলে একই বাড়ির জেঠাতো ভাই সাইফুল্যাহর কাছ থেকে বায়নাপত্র করেন আব্দুল মতিন। এরপর সাইফুল্যাহ ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেন আব্দুল মতিনকে। দখল বুঝে পাওয়ার পর থেকে আব্দূল মতিন ওই জমিতে মৎস্য প্রজেক্ট করে বায়নাপত্র মূলে ভোগদখল করে আসছেন।
অপরদিকে ইউপি মেম্বার ইকবাল হোসেন ওই জমি সাইফুল্যাহর কাছ থেকে খরিদ করেছেন দাবি করে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এদিকে আব্দুল মতিন ছাপকবলা রেজিষ্ট্রি না পেয়ে জমি অন্যত্র বিক্রি করায় ওই কবলার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ দেওয়ানী আদালতে অগ্রক্রয়ের অধিকারী দাবি করে প্রিয়ামশান মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একদিকে আদালতে মামলা চলমান এবং অপরদিকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় জমি জবরদখলের অভিযোগ থাকার পরও ইউপি মেম্বার ইকবাল হোসেন ওই জমি দখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এতে মৎস্য প্রজেক্টের মাছ লুটপাটসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।