আকাশবার্তা ডেস্ক :
পটুয়াখালীর বাউফলে হেলথ কেয়ার ডায়াগনিস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকের নারী কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক চিকিৎসকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতে ওই নির্যাতিত নারী কর্মী মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডায়াগনিস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকের এনেসথেসিয়ার ডাঃ শাহ আলম ও ক্লিনিকের পরিচালকসহ তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। ডাঃ মোঃ শাহ আলম এক সময় বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি করতেন। তার বাড়ি উপজেলার দাশপাড়া ইউপির দাশপাড়া গ্রামে।
জানা গেছে, পৌর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকের (সাবেক নিরাময় ক্লিনিক) নারী কর্মীকে (৩২) ওই ডায়াগনিস্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকের এনেসথেসিয়ার ডাঃ মোঃ শাহ আলম যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। কয়েক দিন আগে তিনি ওই নারী কর্মীকে কুপ্রস্তাব দেন।
এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন শুরু করেন। কয়েক দিন অগে ওই চিকিৎসক নারী কর্মীকে ক্লিনিকে একটি রুমে ডেকে নিয়ে তার শরীরের আপত্তিকর সব জায়গায় হাত দেন । একপর্যায়ে তাকে দিয়ে গোপনাঙ্গ ম্যাসেস করান।
প্রথম দিকে তিনি আপত্তি করলেও পরে নিরুপায় হয়ে সেই কাজটি করেন। এ ভাবে প্রতিদিন তাকে যৌন হয়রানি করা হতো। এ ঘটনা ওই ক্লিনিকের পরিচালককে অবহিত করা হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি।
সোমবার এ ঘটনা নিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হলে বাউফল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের সহযোগিতায় ওই নারী কর্মী আইনী প্রতিকার পেয়েছেন। ওই নারী কর্মী ওই দিন দিবাগত রাতে ডাঃ শাহ আলম ও ক্লিনিকের পরিচালকসহ তিনজনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, থানায় মামলা দায়ের পর বাউফল সার্কেলের সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রাতেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রাতে তিনি দরজা না খোলায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় তাকে পৌর শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠ এলাকার জাহাঙ্গীর টাওয়ারের চতুর্থতলার ফ্লাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।