আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশের এক এএসআই ও এক মেম্বার প্রার্থীও রয়েছেন। ঘটনার পর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তিসহ অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১১টার দিকে রামগতির বড়খেরী ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেম্বার প্রার্থী মোশারেফ হোসেনের (মোরগ মার্কা) সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষ প্রার্থী মিজান মেম্বারের (পানির কল প্রতীক) সমর্থকরা বাঁধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে মেম্বার প্রার্থী মিজান, তার সমর্থক জাহাঙ্গীর, মমিন, হান্নান, দিদার, পুলিশ সদস্য সোহাগ রানা ও রুবেলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে।
এর কিছুক্ষণ পর একই ইউনিয়নের মোজেশ্বর বাড়ির দরজায় হাজিপাড়া জবিউল হক হাফিজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসা কেন্দ্র দখলের জন্য বেলাল হোসেনের (মোরগ মার্কা) সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী জমির আলী ও মাসুমের সমর্থকরা বাঁধা দিলে দুইপক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বেলালের লোকজন মেম্বার প্রার্থী জমির আলী ও তার ভাই জহিরকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখম করে।
এ সময় পুলিশ ও মেম্বার প্রার্থীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশের এএসআই ইমাম হোসেন, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, জহির চেরাঙ্গ গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ ২১ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পরে জবিউল হক হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আহমেদ মিজানুর রহমান ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। তবে ৩ ঘন্টা পর এ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিক্ষিপ্ত এসব ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।