আকাশবার্তা ডেস্ক :
করোনা পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব। কিশোর গ্যাংয়ে যুক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরণের সহিংসতায়। এতে অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে উপজেলার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন চার দোকান, ব্রিজ ও রাস্তার পাসে ১০-১৫ জন কিশোর এক হয়ে আড্ডা দিচ্ছে। এতে প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
সর্বশেষ গেল ২৫ মে উপজেলার ইছাপুরা হাওলাদার বাড়ির মসজিদের সামনে কয়েকটি গ্রামের কিশোররা মিলে ইছাপুরা এলাকার কিশোরদের উপর হামলা করে।
এছাড়া ১৬ আগস্ট, ২০২০ সালে পূর্ব শিয়ালদী গ্রামে দিয়াশলাই চাওয়াকে কেন্দ্র করে হানিফ তালুকদার (১৫) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১০ অগাস্ট ২০২০ সালে মজু পান করাকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোবরদী ও বয়রাগাদী গ্রামের কিশোরদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ভয়ংকর হয়ে উঠছে এ কিশোররা।
জানা যায়, কিশোর গ্যাং সদস্যদের কারও বয়স ১৬ থেকে ১৮ এর বেশি নয়। কেউ পড়াশোনা করে, কেউ করে না। বেপরোয়া স্বভাব, চলাফেরায় থাকে উগ্র। এর ফলে আতঙ্কে হয়ে পড়ছে এলাকাবাসীরা।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন এলাকায় রয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। এসব গ্রুপ তাদের দেয়া বিভিন্ন নামে পরিচিত। উঠতি বয়সের কিশোররা এসব গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত। পশ্চিমা কালচারের অনুকরণে এসব গ্রুপ গড়ে উঠেছে। এসব গ্যাং গ্রুপের মধ্যে সামান্য ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দ্ব›দ্ব ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে।
পড়াশোনা সহ বাড়তি চাপ না থাকায় বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অবাদে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণেরা। এসময় তারা ইভটিজিং, ছিনতাই ও মাদকসেবনসহ নানা অপকর্মে যুক্ত হচ্ছে। জড়িয়ে যাচ্ছে হত্যাকান্ডের মতো ঘটনায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের কছে ব্যবহার হয়েই এসব কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং নামীয় এই তরুনেরা। আনন্দ আর আড্ডার ছলে বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে মাতলামী করছে তারা। এ সময় অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়।
বয়রাগাদী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেন্টু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ার কারণে ছাত্ররা বাড়িতেই থাকতে চায় না। সে কারণে এরকম ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি অতি শীঘ্রই যেন স্কুল-কলেজ খুলে দেয় । তবে কিশোর গ্যাং অনেকটাই কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
বিক্রমপুর সরকারি কেবি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হক হাওলাদার বলেন, কিশোররা এক দুদিনে বা দুই মাসে তার এরকম হয়ে যায় নাই। সমাজে একটা অস্থিরতা আছে,স্কুল কলেজ বন্ধের কারণে যে জিনিসটা বেশি বিস্তার লাভ করছে। এই ছেলেগুলার প্রত্যেকের হাতে একটা করে মোবাইল ফোন রয়েছে।
কাম কাইজ নাই, পড়াশোনা নাই, সে ক্ষেত্রে মোবাইলে নানারকম সিরিয়াল ও বিভিন্ন খারাপ জিনিস দেখে থাকে। সেগুলো দেখে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকে। সে কারণে সঙ্গবদ্ধ হয়ে একজন দুইজন না তারা চার পাচঁজন একসাথে হয়ে এরকম অপকর্ম শিকতে থাকে। অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়ের খোঁজখবর রাখতে হবে।
এবিষয়ে সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এই কিশোররা একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল। তারা ২৫ মে মোটরসাইকেল চালানো কে কেন্দ্র করে একটি মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আমরা ১০ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আর যারা পলাতক আছে তাদেরকে আটক করার জন্য সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছি।
এছাড়া অভিভাবকদেরকে বলবো স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার এ সময় তাদের ছেলেমেয়েরা কে কোথায় যায় তার খোঁজখবর রাখতে হবে। আর এই কিশোররা যাতে ৪/৫জন একসাথে না হয় এবং চলাচল যেন না করে। এজন্য গার্জিয়ানদেরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।