বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট রায়পুরে একই পরিবারের ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বাংলাদেশ ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনছে চীন থেকে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

‘হা হা’ রিয়েক্ট : বাংলাদেশি ইসলামি স্কলারের মন্তব্যে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যাচার

ধর্ম ডেস্ক :

ফেসবুকের ‘হাহা’ ইমোজির ব্যবহার নিয়ে ফতোয়া জারি করেছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি ‘হাহা’ ইমোজি নিয়ে আহমাদুল্লাহর একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন দর্শক শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেছেন কাউকে নিয়ে ঠাট্টা বা হাসাহাসি করা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতেও এটির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। দেখা যাচ্ছে কেউ একটি পোস্ট করেছেন বা মন্তব্য করেছেন তাকে তাচ্ছিল্য করার জন্য সেটি নিয়ে আমরা হা হা রিয়াক্ট দিয়ে থাকি। বিদ্রূপ করে থাকি। যদি রসিকতা করে বা মজা করে এরকম কোনো রিয়াক্ট করি মজা করার জন্য, যার সঙ্গে করছি সেও মজা করছে, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু কাউকে তাচ্ছিল্য করে বা বিদ্রূপ করে থাকি তাহলে এটি হারাম।

শায়খ আহমাদুল্লাহর এই পোস্ট নিয়ে ‘ফেসবুকে ‘হাহা’ ইমোজির ব্যবহার বন্ধে ফতোয়া জারি বাংলাদেশি ধর্মগুরুর’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রচার করেছে ভারতীয় জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ফেসবুকের ‘হাহা’ ইমোজির ব্যবহার নিয়ে ফতোয়া জারি করলেন বাংলাদেশের এক ধর্মগুরু। তাঁর বক্তব্য এই ইমোজির মাধ্যমে অন্য কাউকে বিদ্রুপ করা ইসলামবিরোধী। তাই তিনি সকলকে ‘হাহা’-র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ‘হাহা’ নিয়ে বাংলাদেশি ওই ধর্মগুরুর ফেসবুক পোস্ট এখন নেটমাধ্যমে ভাইরাল। সমালোচনার পাশাপাশি নেটাগরিকদের একটা অংশ ওই পোস্ট ভরিয়েছেন ‘হাহা’ ইমোজিতেই।

তার বক্তব্য এই ইমোজির মাধ্যমে অন্য কাউকে বিদ্রুপ করা ইসলামবিরোধী। তাই তিনি সকলকে ‘হাহা’-র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ‘হাহা’ নিয়ে বাংলাদেশি ওই ধর্মগুরুর ফেসবুক পোস্ট এখন নেটমাধ্যমে ভাইরাল। সমালোচনার পাশাপাশি নেটাগরিকদের একটা অংশ ওই পোস্ট ভরিয়েছেন ‘হাহা’ ইমোজিতেই।

বাংলাদেশের ওই ধর্মগুরুর নাম আহমাদুল্লাহ। ফেসবুক এবং ইউটিউবে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ৩০ লক্ষেরও বেশি। ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন তিনি।

নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ‘‘কাউকে নিয়ে হাসাহাসি বা ঠাট্টা করা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। এই কাজ করা পাপ।’’ হাসি ঠাট্টার বিষয় নিয়ে তিনি বলছেন, ‘‘কেউ যদি কোনও হাসির বিষয় নিয়ে পোস্ট করেন তা হলে ঠিক আছে। না হলে হাহা ইমোজির মাধ্যমে কোনও মুসলমানের প্রতি বিদ্রুপ বা ব্যঙ্গ করা ইসলামের চোখে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। আমি অনুরোধ করছি, ‘হাহা’ থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। বদলে যুক্তির মাধ্যমে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।’’ ওই ইমোজির ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত রাখতে ফতোয়া জারি করার কথাও বলেছেন তিনি।

এই বিষয়টি নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেটাগরিকরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তাঁদের বড় একটা অংশই ‘হাহা’ ইমোজি দিয়ে এই ফতোয়ার বিরোধিতা করেছেন।

তবে আহমাদুল্লাহ তার ভিডিওয়ের নিচে একটি মন্তব্যে লিখেছেন তিনি ইমোজি ব্যবহারকে হারাম বলেলনি।

মন্তব্যে তিনি লিখেছেন, কাউকে নিয়ে বিদ্রুপ করা কোন ধর্মে বৈধ, কোন্ সভ্যতায় গ্রহণযোগ্য?

আমরা কাউকে বিদ্রুপ করে ঠাট্টার ইমোজি ব্যবহার না করার অনুরোধ করেছি। বিনোদনমূলক পোস্ট ও মন্তব্যে এ ধরণের রিআ্যাক্ট দূষণীয় নয়, সেটাও পৃথক করে বলেছি। এতো স্পষ্ট বক্তব্যের পর কিভাবে শিরোনাম হতে পারে, আহমাদুল্লাহ অমুক ইমোজি ব্যবহার হারাম বলেছে?

আমার বক্তব্যটি ভালো করে না শুনে যারা মন্তব্য করেছেন তাদেরকে ৩টা মিনিট ব্যয় করে আবার শোনার অনুরোধ করছি।

অনিয়ম যখন নিয়মে পরিণত হয়, তখন নিয়মের কথা শুনতে বেখাপ্পা মনে হয়। তবুও বলে যেতে হয়। ফেসবুক ইউটিউব অনেক অনভিপ্রেত কিছুকেই আমাদের কাছে স্বাভাবিক করে তুলেছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সামনে একদিন দাড়াতে হবে এ বিশ্বাস যাদের আছে, আমরা সেসব লোকদের এড্রেস করে কথা বলেছি। আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতায় বিশ্বাসকারী কেউ যা খুশি তা করতে পারেন না।

যৌক্তিক কারণে কারো বক্তব্যে দ্বিমত বা অপকর্মের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা দূষণীয় নয়, বরং কাম্য। তার বহু উপায়ও আছে। তবে কোন অজুহাতেই বিদ্রুপ আর ট্রলবাজিকে বৈধতা দিলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রজন্মের ধ্বংস তরান্বিত হবে বৈ কিছুই নয়। কেউ খারাপ হলে আপনাকেও খারাপ হতে হবে, মন্দের মুকাবেলা মন্দ উপায়েই হতে হবে, এ থিউরি সঠিক নয়।

আর যদি এটাকে প্রতিবাদের একমাত্র কার্যকর উপায় মনে করেন তাহলে অন্তত: যেনতেন কারণে মানুষকে নিয়ে ট্রলবাজি আর বিদ্রুপ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিন। কারণ এটা ভালো স্বভাব নয়। ঈমানদারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের অন্যতম হলো, সুমহান চরিত্র ও উত্তম আচরণ; ট্রলবাজি আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ যার পরিপন্থী।

এই বিষয়ে নেটাগরিকরাও সমর্থন জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহকে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১