নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্ত্র, মাদক, পেশীশক্তি আর কালো টাকার ছড়াছড়ির বিরুদ্ধে এবার পরিবর্তনের হাওয়া বইছে ভবভদ্রী গ্রামে। সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলায় ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের এক অপরূপ গ্রাম ভবভদ্রী। এটি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড। লক্ষ্মীপুর জেলার দক্ষিণপাশে প্রবাহিত ওয়াপদা খালের পাশে অবস্থিত গ্রামটি। এখানে বসবাসকারী মানুষের গভীর ঘুমের রাত নিজ গ্রামে কাটলেও সকালের নাস্তা হয় লক্ষ্মীপুরের সীমানায়। তবে, গ্রামটি বর্তমানে মাদকের করাল গ্রাসে জর্জরিত।
এবার গ্রামটিতে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ভোটযুদ্ধে অপর আরো ৩ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শামিল হয়েছেন- বয়সে তরুণ, উদীয়মান সমাজকর্মী কামরুল হাসান কমল। ভবভদ্রীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার জমাদার বাড়ির মৃত গোলাম মোহাম্মদের পুত্র ও প্রাক্তণ মেম্বার অজি উল্যাহ পাটোয়ারীর দৌহিত্র তিনি। আগামী ১১ নভেম্বর তারিখে এই ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। এরই মধ্যে পুরো এলাকা পোষ্টারে পোষ্টারে চেয়ে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে চলছে জমজমাট আলোচনা।
স্থানীয় বাসিন্দা নাছের, কামাল, আলাউদ্দিন, আল-আমিনসহ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একসময় ভবভদ্রী গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙতো অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি আর মুহুর্মুহু গুলির শব্দে। ভয়ে কেউ রাত ৮টার পরে বাড়ি থেকে বের হতো না। একদিকে অনুন্নত রাস্তা-ঘাট, অন্যদিকে আঁকা-বাঁকা সরু রাস্তা পেরিয়ে অসংখ্য ঝোঁপঝাড়ে ভরপুর এই গ্রামটি। রয়েছে অনেকগুলো নিষিদ্ধ পল্লীর মত নির্জন জায়গা। এসব নির্জন জায়গায় চলে রাতভর মাদকের জমজমাট আসর আর নানা অপরাধের কর্মকান্ড।

ফাইল ছবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিগত সময়ে এসব অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে তেমন একটা উচ্চবাচ্য করেননি কেউ। তবে, এবারের ইউপি নির্বাচনে পরিবর্তনের একটি সু-বাতাস বইছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, ভোটের মাঠে টাকার ছড়াছড়ি আর বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এবার কেন্দ্র দখল চলবে না।
এক স্বাক্ষাতকারে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী কামরুল হাসান কমল বলেন, আমি আপেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছি। ভোটের মাঠে কে যোগ্য, তা সবাই জানে। আমি জয়ের ব্যাপারে এবার শতভাগ আশাবাদি।
এদিকে, ভবভদ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের দর্পণ বলে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি একান্ত আলাপচারিতায় জানিয়েছেন, তারা এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ম্যাসেজ ভোটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যাতে কালো টাকার ছড়াছড়ির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সঠিক ব্যক্তিকে ভোটাররা নির্বাচিত করেন।