
আকাশবার্তা ডেস্ক :
ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারের নির্দেশে এক গৃহবধূ ও প্রবাসীকে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার ৪দিন পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ আগষ্ট) সকালে রামগঞ্জ থানার ওসি/তদন্ত জাফর আহম্মেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানায়, ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূ পারুল বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এরআগে গত ১ আগষ্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউপির ফতেহপুর গ্রামের আখঞ্জি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি গত ৪দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
জানা যায়, জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া ও ফতেহপুর ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুক হোসেনের নির্দেশে গৃহবধূ পারুল আক্তার (২৫) ও প্রবাসী মো. সবুজ হোসেনের (২৮) বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে তাদেরকে পৃথক গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং দুইজনের কোমরে রশি লাগিয়ে পুরো গ্রামে ঘুরিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর ওই গৃহবধূ ও প্রবাসীকে হুমকি-ধমকিসহ এলাকা থেকে বিতাড়িত করার জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের লোকজন।
এ দিকে আইনগত ব্যবস্থা যেন না নিতে পারে সে লক্ষ্যে চেয়ারম্যান ও মেম্বার ওই প্রবাসী এবং গৃহবধূর কাছ থেকে ৪টি সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই লক্ষ টাকার মুছলেকা নেয়। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে শালিস বৈঠক স্থগিত করা হয়।
প্রবাসী সবুজ জানায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে টয়লেটে যান তিনি। পরে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুর ঘাটে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা একই বাড়ির বাবুল, রুবেল, আরিফ, হানিফ, রিপনসহ ৪০/৫০ জন তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে সুপারী বাগানে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। এ সময় সেখানে কোন মহিলা না থাকলেও পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহমানের স্ত্রী পারুল আক্তারের ঘরের দরজা ভেঙ্গে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ দিয়ে পারুলকে টেনে হিচড়ে বেদম পিটিয়ে প্রবাসী সবুজের পাশে আরেকটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এলাকায় অসামাজিক ও অনৈতিক কাজ করবে আর আমরা শালিস করতে পারবনা কেন? আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে উনার কাছে জানতে চাইব আমাদের চেয়ারম্যানদের কাজ কি?
রামগঞ্জ থানার ওসি/তদন্ত জাফর আহম্মেদ আকাশবার্তাকে জানান, গৃহবধূ ও প্রবাসীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম গৃহবধূ বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।