নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারের নির্দেশে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূ ও প্রবাসীকে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার ৪ দিন পর অবশেষে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১২ জনকে আসামি করে মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৪ আগষ্ট) সন্ধ্যার পর ভিকটিম পারুল বেগম নিজেই বাদি হয়ে মামলাটি রুজু করেন। এ দিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ফতেহপুর গ্রাম থেকে ফারুক (২০) ও সিরাজ (৪৫) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। অন্যান্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ওসি (তদন্ত) জাফর আহম্মদ।
ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূ পারুল বেগমের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান, রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোতা মিয়া।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত ১ আগষ্ট রাত ৩টার দিকে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউপির ফতেহপুর গ্রামের আখঞ্জি বাড়িতে গৃহবধূ পারুল আক্তার (২৫) ও প্রবাসী মো. সবুজ হোসেনকে (২৮) আটক করে মারধর করা হয়। এরপর দুইজনের কোমরে রশি লাগিয়ে পুরো গ্রামে ঘুরিয়ে নির্মম নির্যাতনের পাশাপাশি গাছের সঙ্গে বেঁধে দ্বিতীয় দফা আবারো নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়া ও ফতেহপুর ওয়ার্ডের মেম্বার ফারুক হোসেনের নির্দেশে বাড়ির বাবুল, রুবেল, আরিফ, হানিফ, রিপনসহ ৪০/৫০ জন মিলে এ ঘটনা ঘটায়। বিষয়টি গত ৪দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এতে ঘটনার পর ওই গৃহবধূ ও প্রবাসীকে হুমকি-ধমকিসহ এলাকা থেকে বিতাড়িত করার জন্য চেয়ারম্যান ও মেম্বারের লোকজন চাপ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা যায় তারা।
এ দিকে আইনগত ব্যবস্থা যেন না নিতে পারে সে লক্ষ্যে চেয়ারম্যান ও মেম্বার ওই প্রবাসী এবং গৃহবধূর কাছ থেকে ৪টি সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই লক্ষ টাকার মুছলেকা নেয়। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে শালিস বৈঠক স্থগিত করা হয়।
প্রবাসী সবুজের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে টয়লেটে যান তিনি। পরে হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুর ঘাটে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা একই বাড়ির বাবুল, রুবেল, আরিফ, হানিফ, রিপনসহ ৪০/৫০ জন মোটা অংকের চাঁদার জন্য তাকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তাকে আটক করে পার্শ্ববর্তী সুপারী বাগানে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এ সময় সেখানে কোন মহিলা না থাকলেও পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহমানের স্ত্রী পারুল আক্তারের ঘরের দরজা ভেঙ্গে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে পারুলকে টেনে হেঁচড়ে বেদম পিটিয়ে প্রবাসী সবুজের পাশে আরেকটি গাছের সঙ্গে বেঁেধ রাখা হয়।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এলাকায় অসামাজিক ও অনৈতিক কাজ করবে আর আমরা শালিস দরবার করতে পারবনা কেন? আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে উনার কাছে জানতে চাইব আমাদের চেয়ারম্যানদের কাজ কি? এভাবে ক্ষমতার দাপট, দম্ভোক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান।
রামগঞ্জ থানার ওসি/তদন্ত জাফর আহম্মেদ জানান, গৃহবধূ ও প্রবাসীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা হওয়ার পর তদন্তকাজ অব্যাহত এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তোতা মিয়া জানায়, ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে।