
আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের মান্দারীতে জাল দলিল সৃজন করে সংখ্যালঘুর জমি দখল করে নিয়েছেন আব্দুল হক নামে স্থানীয় এক জোতদার। এনিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা চলমান এবং উক্ত সম্পত্তিতে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ থাকলে বিবাদিপক্ষ আদালতের নির্দেশ মানছেন না।
সূত্রে জানা যায়, মান্দারী ইউপির মান্দারী গ্রামের খোকন চন্দ্র দেবনাথ গং তাদের পিতা মৃত চন্দ্রকান্ত দেবনাথের ওয়ারিস সূত্রে ১২৪নং মান্দারী মৌজার বিভিন্ন দাগে ২ একর ৭২ শতাংশ জমির মালিক হন। একই এলাকার মৃত মজিব উল্যার পুত্র আব্দুল হক ওই মৌজার ৬৩২, ৬৩৩, ৬৩৪ ও ১১৬০নং খতিয়ানের ১০৬ ও ১০৭ দাগে খোকন চন্দ্র দেবনাথ গংয়ের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ জমি খরিদ সূত্রে মালিক হন। উল্লেখিত ১০৬ ও ১০৭ দাগে আরো ৬০ শতাংশ জমির মালিক খোকন চন্দ্র দেবনাথ গং। কিন্তু আব্দুল হক জাল দলিল সৃজন করে ওই ৬০ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।
এনিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গ্রাম আদালতে এবং উভয়পক্ষের নিয়োগকৃত উকিল সালিশেও ওই ৬০ শতাংশ জমি খোকন চন্দ্র দেবনাথ গং মালিক হিসাবে প্রমাণিত হয়। কিন্তু গ্রাম আদালতের দেওয়া রায় এবং উকিল সালিশের রায় মেনে নেয়নি আব্দুল হক। পরে নিরুপায় হয়ে আদালতের আশ্রয় নেন, সংখ্যালঘু খোকন চন্দ্র দেবনাথ। আদালতে মামলা দায়েরের পর বিতর্কিত ওই সম্পত্তিতে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিলেও আব্দুল হক বার বার আদালতের আদেশ-নির্দেশ তোয়াক্কা না করে ওই জমি ভোগদখল করেন এবং ওই সম্পত্তিতে থাকা গাছপালা কেটে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কারো জমি জোরজবর দখল করেননি তিনি। বরং তিনি যতটুকু কিনে মালিক হয়েছেন তারচেয়ে কম জমি তার দখলে আছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেন বলেন, খোকন চন্দ্র দেবনাথগং ও আব্দুল হকের সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে বিগত চেয়ারম্যান মাহমুদুল করিম দিপু ও বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও সমাধান করতে পারেননি। বর্তমানে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুল ওদুদ বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালে উভয়পক্ষকে নিয়ে অনেকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে খোকন চন্দ্র দেবনাথ জমি পাবে বলে রায় হয়। কিন্তু আব্দুল হক সালিশের রায় মেনে নেয়নি। যার প্রেক্ষিতে খোকন চন্দ্র দেবনাথ আদালতের আশ্রয় নিয়ে মামলা দায়ের করেন।