
ইমরান হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে। চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও আক্রমনাত্মক বক্তব্য। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই ৩টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বর্তমান সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ও সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন লিঠন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সোলায়মান, যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জয়নাল আবেদীন, মো. ইব্রাহীম ও শাহজাহান গাজী।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য ওবায়দুল হক হিরণ, যুবলীগ নেতা সাহাজ উদ্দিন দুলাল, কৃষকলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন মাসুদ ও শফিকুল ইসলাম শিপন। এর মধ্যে ২জন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে স্ব-স্ব প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চন্দ্রগঞ্জ থানা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ব্যানার, পেষ্টুন টাঙিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি প্রার্থী নুরুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী সোলায়মানের পেষ্টুন কে বা কারা রাতের বেলায় ব্লেড দিয়ে কেটে ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এনিয়ে তাদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার আসন্ন সম্মেলনকে সফল করতে দলের প্রস্তুতি সভায় পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে শো-ডাউনকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। এ সময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুসহ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বিজন বিহারী ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন।
আহতরা হলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রণজিৎ দেবনাথ, যুবলীগের ফয়সাল, রাসেল, তাজু, ছাত্রলীগের সজিব, শাহ পরান শাকিল, রাকিব, শুভ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কবির হোসেনসহ ১০ জন। ওই ঘটনার পর থেকে সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর (ভোটার) জানান, সর্বশেষ বিগত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে টাকা এবং পেশিশক্তির জোরে যারা পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন। তারাই আসন্ন সম্মেলনে আবারও টাকা ছিটিয়ে পদ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, অপরদিকে দলের জন্য নিবেদিত ব্যক্তিরা নির্বাচিত না হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ জন্য তারা জেলা ও উপজেলা নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ছাত্রনেতা বলেন, ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন গণতন্ত্র চর্চা হলেও অনেকক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিও নেতা হয়ে যায়। তাই আসন্ন সম্মেলনে কাউন্সিলরদেরকে যোগ্য এবং দলের জন্য ত্যাগী এমন ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের মতামত ব্যক্ত করেন।