আকাশবার্তা ডেস্ক :
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে ক্ষমতাসীন দল। ক্ষমতা থাকলে নির্বাচন বানচাল করে দেখান।
‘সমঝোতায় না এলে সরকারকে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দেয়া এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ আয়োজিত ‘৭ই মার্চের মহাকাব্য-বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস’ শীর্ষক সেমিনারে কথা বলেন তোফায়েল।
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘৭ মার্চের মহাকাব্য-বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম–মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সরকারের অধীনেই ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে যে কোনো দিন নির্বাচন হবে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বও পালন করবে।
মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার জন্য ২০১৩ সালে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন, ৪শ বুথ পুড়িয়েছেন, চারজন প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছেন। অনেক চেষ্টা করেছেন, সফল হননি। আবারো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
বাংলার মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। আর আপনারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় যাবেন, আবার ধ্বংসযজ্ঞ চালাবেন, বাংলার মাটিতে তা জনগণ হতে দেবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাকেও মানুষ চেনে, মওদুদ আহমদসহ তাদেরও চেনে। আমি জনাব মওদুদ আহমদকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই সরকারের অধীনে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। ক্ষমতাসীন সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে, অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি বলেন, সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হবে- এ ধরনের অসাংবিধানিক বা অগঠনমূলক বক্তব্য মানুষ পছন্দ করে না।
তোফায়েল আহমেদ অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি ৫০০টি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছিল। চারজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। ৩৪ জন পুলিশকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে না সরিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন এখনো, আপনার নেত্রী কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন।’
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সহজ না, তবে এটি অসাধ্যও নয়। ছয়জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দেশে বৈঠক করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টও আসবেন। পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আজ হোক, কাল হোক- মিয়ানমার এসব মানুষকে ফেরত নিতে বাধ্য হবে।’
৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ দেশে ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এরপর বিএনপি-জামায়াতের আমলেও এ ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
সূত্র : আমার সংবাদ।