জানা যায়, ফকির হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ৪২৯ বছর পূর্বে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এসে আস্তানা করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন তিনি। পরে তিনি শাহাদত বরণ করলে সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

চন্দ্রগঞ্জে হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) মাঝার প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন শেষে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ।
আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ফকির হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপি ৪২৯তম মেলা (দরগাহ) উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে হযরত দেওয়ানশাহ্ দাখিল মহিলা মাদ্রাসা মিলনায়তনে এক সূধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মিয়া মো. গোলাম ফারুক পিংকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মুনছুর আহম্মেদ, চন্দ্রগঞ্জ থানা ১৪ দলীয় জোটের আহ্বায়ক ছাবির আহম্মেদ, স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সোলায়মান, আওয়ামীলীগ নেতা কাউছার আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু, চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক রাসেদ নিজাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন, আনসার উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মোরশেদ আলম প্রমুখ।
এরপর প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) মাঝার শরীফ প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

মেলায় টক, মিষ্টি, ঝাল সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে দোকান দিয়েছেন ইউপি সদস্য মো. সেলিম।
সপ্তাহব্যাপী বিশাল এ মেলায় কাঠের ও স্টীলের ফার্ণিসার, কুটির শিল্প সামগ্রী, মাটির তৈরী হাঁড়ি-পাতিল, বাচ্চাদের খেলনা, গৃহস্থালী সামগ্রী, কসমেটিকস, চামড়ার তৈরী জিনিসপত্র, হরেক-রকম খাবার সামগ্রী, খাবার হোটেলসহ অন্তত ৫’শ স্টলের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিভিন্ন জেলাসহ বহু দূর-দূরান্ত থেকে আগত দোকানীরা। এছাড়াও বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শণীসহ হোন্ডা খেলার আয়োজন রয়েছে।
জানা যায়, ফকির হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ৪২৯ বছর পূর্বে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এসে আস্তানা করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন তিনি। পরে তিনি শাহাদত বরণ করলে সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
পরবর্তীতে হযরত দেওয়ানশাহ্ (রঃ) সমাধিস্থলকে মাঝার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন এলাকাবাসী। সেই থেকে মাঝার প্রাঙ্গণে প্রতিবছরের পহেলা মাঘ থেকে একই সময় মেলা ও ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়।