লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে ট্রাক্টর ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে আতংকে আছেন সাধারণ পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে রামগঞ্জে ট্রাক্টর ট্রলির ধাক্কায় মোঃ হানিফ মিয়া নামের এক রিকশা চালকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এরআগে গত ১৭ জানুয়ারি কমলনগরে ট্রাক্টর ও অটোরিকশার ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত এক বছরে পুরো জেলায় শুধুমাত্র ট্রাক্টর ট্রলির কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অনন্তপক্ষে ২০ জন এবং আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ৫০ জন।
জানা যায়, বেপরোয়া গতির এই যন্ত্রদানবের কারণে লক্ষ্মীপুর জেলা ব্যাপী পরিবেশ দূষণসহ দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রশাসনসহ সবাই যেন নিরব ভূমিকা পালন করছে এমন অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। পথচারী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ট্রাক্টর ট্রলির বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচল যেন সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ পাকা সড়কগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে প্রতিবছর সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে অপরদিকে রাস্তার পাশের বাড়ির পাকা ভবন ও টিনসেড ঘরের চালায় ধুলো-বালি এবং ময়লার স্তুপ বসেছে।
ভয়ংকর গতিতে চলা এসব যানবাহন বেশি দেখা যাচ্ছে, সদর উপজেলার চর উভুতি থেকে কমলনগরের তোরাবগঞ্জ পর্যন্ত। রামগঞ্জের বেড়ি এলাকা, রায়পুরের প্রায় সর্বত্র এবং রামগতি উপজেলায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক সেন গুপ্ত বলেন, “বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা ব্যাপী ট্রাক্টর ট্রলীর কারণে সড়ক চলাচলে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ইটভাটার এসব অনুমতিবিহীন যন্ত্রের কারণে যত্রতত্র দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া এ সকল যন্ত্রের চালকদের তো কোন প্রশিক্ষণই নেই। আমি অতি দ্রুত এসব যন্ত্রদানব বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করি”।




























