মঙ্গলবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মনুষ্যত্বের পরিচয় মানবিকতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন

বিশেষ সম্পাদকীয় :

‘মানুষ মানুষের জন্য/ জীবন জীবনের জন্য/ একটু সহানুভূতি কি/ মানুষ পেতে পারে নাৃও বন্ধু’ ভুপেন হাজারিকার এই জীবনমুখী গানের পঙক্তি আজও মানুষের মনে দোলা দেয়। আমরা তো সবাই মানুষ। পার্থক্য শুধু একটাই কারো অর্থবিত্ত বেশি আর কারো কম। কিন্তু আমরা সবাই সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করি। এই সমাজবদ্ধ অবস্থায় যদি মানুষের দুঃসময়ে, বিপদে-আপদে, মহামারিতে আমরা একে অন্যের প্রতি সদয় না হই, বিপদে আপদে যদি এগিয়ে না আসি তাহলে আমরা কীসের মানুষ। তারা মনুষত্বহীন মানুষ। যারা মানবিক নয়।

আমরা সেই মানুষ হতে চাই- যে মানুষ হবে একজন মানবিক, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, অন্যের বিপদে ছুটে আসবে, মানুষের কষ্টে ব্যথিত হবে। যারা একমুঠো ভাতের জন্য দিশেহারা তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। তারাই হচ্ছে সত্যিকারের মানবিক মানুষ।

দেশ, জাতি, বিশ্ব আজ চরম সংকটে। মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। হাজার হাজার মানুষ আজ মারা যাচ্ছে। ভবিষ্যত খুবই ভয়ঙ্কর। কত লাখ মানুষ মারা যাবে তার কোনো ইয়ত্বা নেই। বিশ্বের পাশাপাশি আজ বাংলাদেশের অবস্থা চরম সংকটের দিকে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১২৬২ জন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ।

করোনাভাইরাসের কারণে যাদের কপালে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তারা হল দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আমাদের অনেকের ঝুঁকিটা স্বাস্থ্যগত। কিন্তু তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং তার চেয়ে অনেক বেশি সংকটাপূর্ণ।
তবে করোনা মহামারীর কারণে নিম্ন আয়ের এ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, তার থেকে বেশি উৎকণ্ঠিত খাদ্য নিয়ে। তাদের একটাই কথা- ‘কাম না করলে খামু কেমনে? বউ-বাচ্চারে কী খাওয়ামু? বুড়া বাপ-মা’রে কেমনে দেখুম? আমগোরে করোনায় মরতে অইবো না। বেশিদিন এমন চললে আমরা এমনেই না খাইয়া মইরা যামুগা।’

সরকার তার সাধ্যমত চেষ্টা করছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে সহায়তা করতে। ঈদুল ফিতরে সরকার ৫০ লক্ষ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে ঈদ উপহার হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ সহায়তা করেছে। এছাড়া গত ৩ মাস ব্যাপি ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে সমাজের বিত্তবান মানুষেরা। যার যার অবস্থান থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গরীব-দুঃখীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা অর্জন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলার সূর্য সন্তানেরা একে অন্যের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছেন আমাদের এই দেশ। সেই দিন শত্রুর মোকাবেলায় সবাই একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। যার যা আছে তাই নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। বৃদ্ধ, নারী, শিশু সবাই সবার জায়গা থেকে এক হয়ে সহযোগিতা করেছিল।

সেই ১৯৭১ সালের ন্যায় আজ করোনাভাইরাসের মত অদৃশ্য শত্রু আমাদের সন্নিকটে। তার সঙ্গে লড়াই করার দিন আজ। মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের কারণে দেশ আজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমতাবস্থায় শত্রুর মোকাবেলায় আমাদের একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যার যা আছে তাই দিয়ে মানুষকে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এদেশের দিনমজুর-অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই আমরা সেই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলা করে জাতি হিসেবে জয়ী হতে পারবো। সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা করোনাযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবো; ইনশাআল্লাহ।

একজন মানবিক মানুষ বিবেচনায় আনলে বলতে হবে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সবচেয়ে বড় মানবিক মানুষ। ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও যদি একজনও হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। এ কথাটির চেয়ে বড় ন্যায্য কথা আর কিছু হতে পারে না। তাই বঙ্গবন্ধু ছিলেন সবচেয়ে বড় মানবিক মানুষ। যিনি অন্যের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর মত মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ হতে হবে।

একজন সাংবাদিকের মধ্যে অন্যের প্রতি সদয় হওয়া এবং মানবিক আচরণ করা সবচেয়ে বড় ব্যাপার। সাংবাদিক হিসেবে আমি/আমরা যে কমিউনিটিতে বসবাস করি, সেই কমিউনিটির সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক হওয়াই একজন সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য। আমার বিচরণ, আমার কর্মকান্ড, আমার লেখনি হতে হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে। আমার লেখনির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে দুষ্টের দমন এবং সৃষ্টের লালন। আমার কারণে স্বস্তিবোধ করতে হবে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে। আমাকে বজায় রাখতে হবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব। না হলে আমার মহান পেশা কলংকিত হবে।

আনকোড;
সোনার ডিম পাড়া রাজার চাকুরীটা চলে গেলো আদব, কায়দা শিখিনি বলে। এরপর ভদ্রতার লেবাসে সুঁই হয়ে ডুকলাম যার প্রতিষ্ঠানে, শেষে কীনা তারই ক্ষতি করলাম সবচেয়ে বেশি। বেচারা সহজ-সরল লোকটা আমাকে খুবই বিশ্বস্ত ভেবেই জায়গাটা দিয়েছিলেন। টেকনোলজি বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করলাম যার প্রতিষ্ঠানে, সে প্রতিষ্ঠানটার প্রতিদ্বন্দ্বি এখন আমি নিজেই। আহারে, আমি মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ হলাম কবে?

সমাজটাকে বদলে দেব বলে জাতির আয়না পরিচয় ধারণ করেছি, শুক্কুরে শুক্কুরে আষটে দিনও হয়নি। করোনাকালে আমার জাত ব্যবসায়ীরাই হলো আমার পেশার কারণে নিগৃহিত। তবুও বলবো, আমি-ই মানবিক। সাংবাদিকতায় আমি এখনো আঁতুরঘরে। হামাগুড়ি দিতেও শিখিনি এখনো। কিন্তু আমার তর্জনী, গর্জনী সব অসভ্যতাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমি শ্রদ্ধা করতে শিখিনি তাদের, যাদের এ পেশায় কেটে গেলো কয়েকযুগের বসন্ত। তবুও আমি সবচেয়ে বড় মানবিক!

মো. আলী হোসেন, সাংবাদিক ও লেখক

E-mail- ahossain640@gmail.com

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুলাই    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
}