সর্বশেষ:
মোটরসাইকেল ফেরত চাওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় ব্যবসায়ী নিহত চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা, আনন্দ মিছিল লক্ষ্মীপুরে গুলি করে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানকে হত্যা লক্ষ্মীপুরে ৫ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে ব্রিকফিল্ড মালিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন : চলছে সংস্কার কাজ মান্দারী ক্লাবের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি বাবলু, সম্পাদক জাহিদ  লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতাকে মব করে অপহরণ, ছাত্রদল নেতা আটক লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

দুধ-আনারস একসঙ্গে খেলে কী মানুষ মারা যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক :


আনারস এক প্রকারের গুচ্ছফল। এই ফলের আদি জন্মস্থল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। তবে বর্তমানে ক্রান্তীয় অঞ্চলে বিশ্বের সর্বত্রই এর চাষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।এটি খুব উপাদেয় ফল। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ এবং সি।

আনারস খাওয়ার উপকারিতা :
*ওজন নিয়ন্ত্রণে : শুনতে অবাক লাগলেও আনারস আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আনারসে প্রচুর ফাইবার এবং অনেক কম ফ্যাট রয়েছে। সকালে আনারস বা সালাদ হিসেবে এর ব্যবহার অথবা আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

*হাড় গঠনে : আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

*দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায় : আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।

*চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, আনারস ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন হওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ রোগটি আমাদের চোখের রেটিনা নষ্ট করে দেয় এবং আমরা ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাই। আনারসে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এতে সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।

*হজমশক্তি বাড়ায় : আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

*রক্ত জমাটে বাধা দেয় : দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।

অপরদিকে, দুধকে আমরা সুষম খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করি। দুধে প্রচুর পুষ্টি-উপাদান থাকে। ক্যালসিয়াম ছাড়া দুধের মধ্যে ফসফরাস, আয়রন, জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে। দুধ খাওয়ার উপকারিতা অনেক।

দুধ খাওয়ার উপকারিতা :
*ক্লান্তি দূর করে : কর্মব্যস্ততার পর ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস গরম দুধ খুবই উপকারী। গরম দুধ ক্লান্ত পেশি সতেজ করতে সাহায্য করে। এছাড়া, দুধ খেলে শরীরে মেলটনিন ও ট্রাইপটোফ্যান হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোনগুলো ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে।

*হৃদপিণ্ড ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ  : দুধে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদপিণ্ডের পেশির সুস্থতা বজায় রাখে। তাছাড়া এর খনিজ উপাদান হৃদপিণ্ড সতেজ রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণও করতে পারে।

*চুলের পুষ্টি : দুধে আছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুলের জন্য খুব উপকারী। তাছাড়া দুধের ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের জন্যও জরুরি। তবে অপানার যদি হাইপার অ্যাসিডিটি থেকে থাকে তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার দুধ এড়িয়ে চলাই ভাল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে দুধ ও আনারস একসঙ্গে খেলে কী হয়? আনরাস আর দুধ এক সাথে খেলে মানুষ বিষক্রিয়া হয়ে মারা যায়- এ রকম একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা অনেক সময় ছোটদের এ খাবার একসাথে খেতে নিষেধ করেন। তবে আসলেই কী এ রকম হয়? আসুন জেনে নিই আসলে কী হয় আনারস আর দুধ একসঙ্গে খেলে।

ডাক্তাররা বলছেন, ‘আনারস ও দুধ একসাথে খেলে বিষক্রিয়া হয়ে কেউ মারা যায় এই ধারণা ভুল। এগুলো এক ধরনের ফুড ট্যাবু বা খাদ্য কুসংস্কার।’ ‘আনারস একটি এসিডিক এবং টক জাতীয় ফল। দুধের মধ্যে যেকোনো টক জাতীয় জিনিস দিলে দুধ ছানা হয়ে যেতে পারে বা ফেটে যেতে পারে। এটা কমলা ও দুধের বেলায় বা লেবু ও দুধের বেলাতেও ঘটে। ফেটে যাওয়া দুধ খেলে খুব বেশি হলে বদ হজম, পেট ফাঁপা, পেট খারাপ– এ ধরনের সমস্যা হতে পারে, তবে বিষক্রিয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যাদের গ্যাসট্রিকের সমস্যা রয়েছে খালি পেটে আনারস খেলে তাদের এই সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।’

দুধ যদি পাস্তুরিত না হয়,তবে কাচা দুধ ও আনারসের সমন্বয়ে শরীরে বিক্রিয়া হতে পারে। দুধের সাথে আনারসের সঠিক সমন্বয় না হলে শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য খাবারের বেলাতেও একই বিষয় হতে পারে।’ ‘আমরা বিভিন্ন সময়ই পাইনাপেল কাস্টার্ড, ডেজার্ট, পাইনাপেল স্মুদি, পাইনাপেল মিল্ক সেক, পাইনাপেল সালাদ, পাইনাপেল ইয়োগার্ট ইত্যাদি খাই। এতে সমস্যা হয় না।

কারণ এগুলোর মধ্যে খাদ্যের সঠিক সমন্বয় থাকে এবং নিয়ম মাফিক বা সঠিক নিয়মে বানানো হয়। আর হয়তো এক গ্লাস দুধ খেলেন, পাশাপাশি আনারস খেয়ে নিলেন তাহলে সঠিক খাদ্যের সমন্বয় হয় না। এ ক্ষেত্রে সঠিক সমন্বয় না হওয়ার ফলে পাতলা পায়খানা, বদ হজম, এসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তবে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

November 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930