স্পোর্টস ডেস্ক :
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানির জামিন আবারো নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এর ফলে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার পর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানির সময় মামলার বাদী ওই তরুণী উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ জানুয়ারি আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মোহাম্মদপুর থানায় এই মামলা করেন ওই তরুণী। গত ১৯ জানুয়ারি সানিকে ঢাকার আমিনবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই তরুণী নিজেকে আরাফাত সানির স্ত্রী দাবি করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে যৌতুক নিরোধ আইনে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালত নালিশি এই মামলা আমলে নিয়ে আরাফাত সানির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আগামী ৫ এপ্রিল সমন জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার আদেশ দেন আদালত।
এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ক্রিকেটার আরাফাত সানি ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন ওই তরুণী। এই মামলাতেও আরাফাত সানির রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ওই তরুণী অভিযোগ করেন, আরাফাত সানির সঙ্গে তাঁর ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। গত বছরের ১২ জুন আরাফাত সানি দুজনের একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ও তাঁর (তরুণীর) একক আপত্তিকর ছবি ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে হুমকি দেন। ২৫ নভেম্বর আরাফাত সানি তাঁকে (তরুণীকে) আবারও আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে বলে হুমকি দেন।
২২ জানুয়ারি ঢাকার আমিনবাজার এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নাসরিন সুলতানার প্রথম মামলায় আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। পরে ঢাকার মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই তাঁকে একদিনের রিমান্ডে পাঠান। এর পর থেকেই সানি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথিতে দাবি করা হয়, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ক্রিকেটার আরাফাত সানির সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা দুজন ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। সংসার চলার সময় ছয় মাস পর ক্রিকেটার আরাফাত সানি তাঁর মায়ের পরামর্শে নাসরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকার জন্য সানি তাঁর স্ত্রীকে মারধর ও গালিগালাজ করে ভাড়া বাসায় ফেলে যান।
নথিতে আরো উল্লেখ করা যায়, ২০১৬ সালের ১২ জুন বাদী নাসরিন সুলতানা ভাড়া বাসাসহ যাবতীয় ভরণপোষণ না পেয়ে নিরূপায় হয়ে সংসার করতে স্বামী সানির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় সানি যৌতুকের ২০ লাখ টাকা দাবি করে নাসরিনকে বলেন, ‘যৌতুকের টাকা না দিলে আমার মা তোমার সঙ্গে সংসার করতে দেবেন না এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার পরিণতি অনেক খারাপ হবে। কারণ তোমার কিছু অশ্লীল ছবি আমার মোবাইল ফোনে রয়েছে।’ এরপর বাদীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সানির মা তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোর সঙ্গে আমার ছেলে সংসার করবে না। তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যবস্থা কর।’ এরপর বাদী তাঁর বাসায় চলে যান।
আরাফাত সানির আইনজীবী মুরাদুজ্জামান বলেন, এর আগে আরাফাত সানির জামিন নাকচ করেছিলেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। ওই জামিন নাকচ আদেশের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে জামিনের আবেদন জানানো হয়। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আরাফাত সানির জামিন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।