স্বাস্থ্য ডেস্ক :
রায়হান আহমেদ (২৮)। গেলো ১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান প্রদেশ থেকে দেশে ফেরেন ৩১৬ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে রায়হান আহমেদও ছিলেন। দেশে ফেরার পর অন্য সবার মতো তিনিও মেডিক্যাল চেকআপ-এর জন্য রাজধানীর আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ছিলেন।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি শর্ত সাপেক্ষে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়। রোববার দুপুরে রায়হান অসুস্থবোধ করলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। এসময় তাকে ঘিরে শুরু হয় তোলপাড়।
চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অনেক রোগী ও স্বজনকে তখন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতেও দেখা যায়। তবে রায়হান বারবার দাবি করেন তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত নন। এক পর্যায়ে তিনি আতঙ্ক কমাতে চিকিৎসা না নিয়েই বাসায় ফিরে যান।
রোবাবর (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ রায়হান আহমেদকে বাসা থেকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালের ২৫০ শয্যা ভবনের পঞ্চম তলায় বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়।
হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রায়হান আহমেদকে সদর হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পরীক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তার রক্তের সিম্পল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যেহেতু তাকে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেহেতু তার শরীরে করোনাভাইরাস থাকার আশঙ্কা নেই। এই রোগীকে হাসপাতালের ৫ম তলায় একেবারেই বিচ্ছিন্ন একটি স্থানে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য কোনো রোগীর আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চীনে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। তবে নতুন করে আক্রান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা কমেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০০ কাছাকাছি পৌঁছেছে। আর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে আরও ১০৫ জন কভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে এখন পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ডেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭০ জনে।