রবিবার ২২শে মার্চ, ২০২৬ ইং ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিকল পরা দুঃসহ জীবন

আকাশবার্তা ডেস্ক :
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দুঃসহ জীবনযাপন করছেন মো. রবি উল্যাহ খোকন (৫০)। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এমন অবস্থায় চলাফেরা করতে হচ্ছে তাকে। এ দিকে নিজের চিকিৎসার জন্য ৮ বছর প্রবাস জীবনে উপার্জিত সম্পর্ণূ টাকা-পয়সা পুরিয়ে গেছে। এরপরও সুস্থ্য হননি। অসুস্থ্যতায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার পরিবারকে। খোকন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের নান্নু চেয়ারম্যান বাড়ির ছানা উল্যার বড় ছেলে। তার পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, ভাই-ভাবী, স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর ধরে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবনযাপন করতে হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন খোকনকে। এ যেন এক বিপন্ন জীবন। হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা করতে পারছেন না। শিকল বাঁধা অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে দেখা যায়। টাকা পয়সা না থাকায় উন্নত চিকিৎসা নিতেও পারছেন না। অন্যদিকে অভাব-অনটনের সংসারে একমাত্র মেয়েকে অপরিণত বয়সে বিয়ে দিতে হয়েছে। এখন ভাইদের সহযোগিতায় কোনভাবে চলে তার সংসার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যুবক বয়সে বিদেশ (ওমান) পাড়ি দেয় খোকন। ৮ বছর প্রবাসে থেকে অসুস্থ্যতার কারণে দেশে ফিরে আসেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার উপার্জিত সকল অর্থ ব্যয় করা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসা চালাতে তার পরিবারকে হিমশিম খেতে হয়। তারপরও তাকে সুস্থ্য করে তোলা যায়নি। ধীরে ধীরে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়িঘর ভাংচুরসহ কাউকে দেখলে খেপে উঠেন। তাই কোন উপায়ন্তর না দেখে হাতে-পায়ে লোহার শিকল বেঁধে রাখা হয়।

খোকনের বাবা ছানা উল্যাহ আক্ষেপ করে বলেন, আমি ৭০ বছরের বৃদ্ধ। এ বয়সে আমি নিজেও চলতে পারিনা। কিন্তু আমার চোখের সামনে বড় ছেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাতে-পায়ে শিকল বেঁধে জীবন কাটাতে হচ্ছে। যা সহ্য করতে আমার খুব কষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত খোকন। তবে এ রোগের উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে সে ভালো হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১