লাইফস্টাইল ডেস্ক :
র্দীঘদিন হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন কারণে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের স্বপ্ন মাটির সাথে মিশে গেছে, আজ পরিবারের বোঝা হয়ে যাচ্ছি, টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতাম তাও সম্ভব হচ্ছে না। কথা গুলো বলছিলেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নায়েক নুর মোহাম্মদ।
দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শির্ক্ষীদের নানা স্বপ্ন ও লক্ষ্যে বাধাঁ সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নানান শিক্ষা সংকট, সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মনে নানান প্রশ্ন।
নুর মোহাম্মদ বলেন, ক্লাসে যাই না আজ ১৫ মাস, প্রথমবর্ষে ফাইনাল এক্সাম দিয়ে এই যে বাসায় এলাম আর যাওয়া হয়নি ক্লাসে। আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, ক্লাসের প্রথমদিন থেকেই ক্লাসের প্রতি একটা মায়া জমে গেছে, সহপাঠীদের নিয়ে ক্লাসটাকে খুব সুন্দর করেই সাজিয়েছিলাম, দার্শনিক এরিস্টটল, প্লেটো,নেলসন ম্যান্ডেলা,বঙ্গবন্ধুসহ অসংখ্য বিজ্ঞানী, দার্শনিক আর রাজনীবিদদের ছবি দিয়ে। ক্লাসটা ছিলো স্বপ্নের স্বর্গ, আজ ১৫ মাস ক্লাসের দরজায় তালা লাগানো, ছবিগুলোতে হয়তো ধুলোর স্তুপে ঢুবে গেছে যেভাবে স্বপ্নটা লকডাউনে থেমে আছে। স্বপ্ন ও ক্লাস দুটোতেই আজ ধুলো।
নুর মোহাম্মদ আরো বলেন, টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাতাম নিজের। যেহেতু ঢাকায় মেস ভাড়া করে থাকি তাই নিজের খরচ নিজে চালানোর চেষ্টা করতাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি চাইলেই এ বয়সে পরিবারের কাছ থেকে টাকা মাসে মাসে চেয়ে আনতে পারি না। বাড়িতে আরো সদস্য আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে অন্তত টিউশনি করে নিজের হাত খরচ চালাতে পারতাম।
নুর মোহাম্মদ আরো বলেন, মহামারিতে বিশ্বে অসংখ্য মানুষ মারা গেছে। দেশেও তার পরিমাণ কম নয়। আমরা স্বাস্থ্য সচেতন থেকেছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলমান জীবন পরিচালনা করছি। দেশের সবকিছুই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, শুধু ধুলো জমছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। নারীরা আর হত-দরিদ্র শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলো তা আর হয়তো ধুলোর স্তুপ থেকে উঁকি মারার সুযোগ পাবে না। করোনা মহামারি দীর্ঘমেয়াদী ভাইরাস, সে অনুযায়ী এটা পৃথিবী থেকে আদৌ যাবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই বলে কি আমাদের শিক্ষাকার্যক্রমও অনিশ্চয়তায় থাকবে? তাই অনুরোধ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিন। আমাদের স্বপ্নগুলোতে ধুলো পড়তে দিতে চাই না।