নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে বহিস্কার আতঙ্কে থাকা ১২ জন সদস্য আগেভাগেই স্বেচ্ছায় তাদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২৯ জুলাই শনিবার রাতে সদস্যপদ প্রত্যাহারকারীদের স্বাক্ষরিত দুই দফায় প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে প্রথমে ১৫ জনের নামের তালিকা দিয়ে সাধারণ সদস্যদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে ক্ষুব্দদের তোপের মুখে নামের তালিকা পাল্টিয়ে এর আধাঘন্টা পর আবার দ্বিতীয় দফায় ১২ জনের নামে বেনামে স্বাক্ষর করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এদিকে ১২ জনের নামের তালিকায় থাকা অনেকেই সদস্যপদ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানেন না বলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সদস্যপদ ত্যাগ নিয়েও নানা ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, শনিবার রাতে (২৯ জুলাই) প্রেসক্লাব থেকে পূর্বেই বহিস্কৃত সহ-সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক মাউনসহ প্রথম আলো প্রতিনিধি এম জে আলমের নেতৃত্বে শহরের স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে বৈঠক করে সম্মানিত সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এএফএম মতিউর রহমান, মামুন রশিদ, মো. সাহাব উদ্দিন, আবদুর রহমান, রাকিব হোসাইন, জাহিদুর রহিম, রফিকুল ইসলাম রাজু, মো. মামুনুর রশিদ, আবদুল্লাহ আল ফারুকসহ ১৫ জন স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ১ম দফা প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর পর ১৫ সদস্যের অনেকেই বিষয়টি না জানায় এনিয়ে সাধারণ সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে পরে সংশোধন করে দ্বিতীয় দফায় আবারও ১২ জনের তালিকা পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট পত্রিকাগুলোর ই-মেইলে। যার মধ্যেও অনেকেই তাদের সঙ্গে নেই এবং তালিকায় ভুয়া স্বাক্ষর প্রদান করেছে বলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে অনেকেই জানান।
এদিকে কথিত পদত্যাগের বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল ইসলাম যৌথভাবে জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই/১৭ শনিবার কার্যকরী পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিতর্কিত কর্মকান্ড এবং সংগঠনের শৃংখলা ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের দায়ে কেন তাদের বহিস্কার করা হবেনা এই মর্মে ওই সভায় ১০ জনকে নোটিশ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। উক্ত নোটিশের সিদ্ধান্তে ক্ষীপ্ত হয়ে এবং বহিস্কার আতঙ্কে তারা পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ দাবি করেন। এছাড়া শৃঙ্খলা জনিত অপরাধে এসব সদস্যরা নিজ থেকে পদত্যাগ করে চলে যাওয়ায় তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও দাবি করেন প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে চাঁদাবাজি, অর্থ সাৎ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ গঠনতন্ত্র ও সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ডের দায়ে কার্যকরী কমিটির ১১ জনের মধ্যে ৯ জনের অনাস্থার ভিত্তিতে গত ২০ জুন সভাপতি ও সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার হয় আবুল কালাম আজাদ এবং এরআগেই সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজিজুল হক মাউনকে বহিস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। এরপর নিজের মর্যাদা রক্ষায় বহিস্কৃত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ গোপনে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিতরা প্রেসক্লাব থেকে বহিস্কার আতঙ্কে নিজেরাই সন্মান রক্ষার্থে আগেভাগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ালেন বলে জানা গেছে।